মেকআপের জগতে ব্লাশ হলো সেই ছোট্ট উপাদান, যা সামান্য স্পর্শেই চেহারায় সতেজতা ও উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে। কিন্তু অনেকেই মেকআপ করার সময় চিন্তায় পড়ে যান কোনটি রঙের ব্লাশ ব্যবহার করবেন। ভুল শেড বেছে নিলে পুরো সাজটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু রঙের ব্যবহার নয়, ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফুটিয়ে তোলা এবং সঠিক আন্ডারটোন বুঝে ব্লাশ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের নিচে থাকা সূক্ষ্ম রঙের ছায়াকে আন্ডারটোন বলা হয়। এটি স্থায়ী এবং মৌসুম পরিবর্তন হলেও পরিবর্তিত হয় না। আন্ডারটোন সাধারণত তিন প্রকারের- কুল, ওয়ার্ম এবং নিউট্রাল। কুল আন্ডারটোনের ত্বকে হালকা নীল বা গোলাপি ছায়া থাকে, ওয়ার্ম আন্ডারটোনে হলুদ বা সোনালি আভা, আর নিউট্রাল আন্ডারটোনের ত্বক উভয় রঙের মিশ্রণ। এই আন্ডারটোন বুঝেই ব্লাশের সঠিক শেড বেছে নেওয়া উচিত।
আসুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের বর্ণ অনুযায়ী ব্লাশ নির্বাচন কীভাবে করবেন-
ফর্সা ত্বকযাদের গায়ের রং ফর্সা, তাদের জন্য হালকা গোলাপি, পিচ বা পেস্টাল শেডের ব্লাশ সবচেয়ে মানানসই। খুব গাঢ় রং ব্যবহার করলে তা কৃত্রিম মনে হতে পারে। হালকা ব্লাশ চেহারায় প্রাকৃতিক লাবণ্য এনে দেয় এবং মুখে কোমল উজ্জ্বলতা যোগ করে।
উজ্জ্বল থেকে শ্যামলা ত্বকমধ্যম বা শ্যামলা ত্বকের জন্য কোরাল, রোজি পিঙ্ক বা উজ্জ্বল পিচ শেড বেছে নেওয়া উত্তম। এই রংগুলো ত্বকে উষ্ণতা যোগ করে এবং চেহারাকে সতেজ দেখায়। বেশি গাঢ় বা অপ্রাকৃতিক রং ব্যবহার না করে এই শেডে ব্লেন্ড করলে মুখে একটি স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফুটে ওঠে।
চাপা বা গভীর গায়ের রংগভীর বা চাপা ত্বকের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল বেরি, ব্রিক রেড বা টেরাকোটা রঙের ব্লাশ ভালো মানায়। এই শেডগুলো চাপা ত্বকে সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে এবং চেহারায় আভিজাত্য যোগ করে। খুব হালকা রং ব্যবহার করলে তা চোখে পড়ে না, তাই গাঢ় শেডই সবচেয়ে কার্যকর।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্লাশব্লাশের ধরন বা টেক্সচার বেছে নেওয়া ত্বকের ধরন অনুযায়ী করা উচিত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পাউডার ব্লাশ আদর্শ, কারণ এটি অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ ব্যবহার করা উত্তম। এই ধরনের ব্লাশ ত্বকের সঙ্গে মিশে গিয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য ফুটিয়ে তোলে।
ব্লাশ প্রয়োগের কৌশলব্লাশ সবসময় অল্প করে নিয়ে ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও লেয়ার দেওয়া যায়। হাসলে গালের যে অংশটি ফুলে ওঠে, সেখান থেকে শুরু করে হালকাভাবে ওপরের দিকে ব্লেন্ড করলে মুখের আকৃতি সুন্দর ও স্লিম দেখায়। ক্রিম বা পার্ল ব্লাশ ব্যবহার করলে মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও ভলিউম বৃদ্ধি পায়।
ব্লাশ ব্যবহারের সঠিক স্থানকেবল রংই নয়, মুখের কোন অংশে ব্লাশ ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। গালের হাড়ের ওপরের অংশে ব্লাশ ব্যবহার করলে মুখ দেখতে সুগঠিত এবং সতেজ মনে হয়। চেহারার আকার অনুযায়ী হালকা ব্লেন্ডিং করলে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও প্রাকৃতিক লুক পাওয়া যায়।
সঠিক ব্লাশ নির্বাচন কেবল চেহারার সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং আপনার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাকেও ফুটিয়ে তোলে। আন্ডারটোন বুঝে শেড বেছে নেওয়া, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফর্মুলা নির্বাচন এবং হালকাভাবে ব্লেন্ড করলে চেহারায় স্বাভাবিক লাবণ্য ও সতেজতা নিশ্চিত হয়। সঠিক ব্লাশ ও প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি হবেন আরও লাবণ্যময়ী এবং সাজগোজে আত্মবিশ্বাসী।
সূত্র: ভোগ, হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন:ত্বকের যত্নে কীভাবে বানাবেন সুগার স্ক্রাব, জানুন সঠিক উপায় ডিমের কুসুম না সাদা অংশ, ত্বকের যত্নে কোনটি বেশি কার্যকর?এসএকেওয়াই