গরম পড়লেই স্বস্তির খোঁজে আমরা যে ফলটির দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি, তা হলো তরমুজ। রসালো, ঠান্ডা আর পানিতে ভরপুর এই ফলটি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরকেও রাখে সতেজ। কিন্তু জানেন কি, তরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু ভুল আছে, যেগুলো না জেনে প্রতিদিনই অনেকে করে ফেলছেন? আর সেই ভুলগুলোই কখনও কখনও উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনে। চলুন তাহলে জেনে নেই গরমে তরমুজ খাওয়ার সময় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।
অনেকে মনে করেন সকালে খালি পেটে তরমুজ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। কিন্তু সবার জন্য এটি ভালো নাও হতে পারে। তরমুজে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক চিনি থাকায় খালি পেটে খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, গ্যাস বা হালকা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই খালি পেটে না খেয়ে হালকা কিছু খাওয়ার পর তরমুজ খাওয়াই ভালো।
খাবারের সঙ্গে সঙ্গে তরমুজ খাওয়াভাত বা ভারী খাবারের পরপরই তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস অনেকের আছে। কিন্তু এটি হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ তরমুজ দ্রুত হজম হয়, আর ভারী খাবার সময় নেয়, ফলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই খাবারের অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পরে তরমুজ খান।
অতিরিক্ত ঠান্ডা তরমুজ খাওয়াফ্রিজ থেকে বের করা বরফ-ঠান্ডা তরমুজ খেতে দারুণ লাগে, কিন্তু এটি গলার সমস্যা, ঠান্ডা লাগা বা হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। এজন্য ফ্রিজ থেকে বের করে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর খান।
‘ফল তো ক্ষতিকর নয়’ এই ধারণা থেকে অনেকেই একসঙ্গে অনেক তরমুজ খেয়ে ফেলেন। কিন্তু তরমুজে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই পরিমাণে সংযম রাখুন, একবারে মাঝারি পরিমাণই যথেষ্ট।
কাটা তরমুজ বেশি সময় রেখে খাওয়াকাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় বাইরে বা ফ্রিজে খোলা অবস্থায় রাখলে এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। ফলে তা খেলে পেটের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতএব কাটা তরমুজ দ্রুত খেয়ে ফেলুন, আর সংরক্ষণ করলে ঢেকে রাখুন।
ডায়াবেটিস থাকলে না ভেবে খাওয়াতরমুজ মিষ্টি ফল হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অনেকেই না জেনে বেশি খেয়ে ফেলেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেজন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন।
রাস্তার ধুলো-ময়লা লেগে থাকা তরমুজ খাওয়ারাস্তার পাশে কাটা তরমুজ দেখতে আকর্ষণীয় লাগলেও তা অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়। এতে জীবাণু থাকার সম্ভাবনা বেশি। অতএব সবসময় পরিষ্কার ও নিরাপদ জায়গা থেকে তরমুজ কিনুন।
তরমুজ নিঃসন্দেহে গরমের অন্যতম উপকারী ফল। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে খেলে উপকারের বদলে সমস্যা হতে পারে। তাই ছোট ছোট এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে তরমুজ খাওয়ার আসল উপকারটাই পাওয়া যাবে। গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে খাবারের মতো ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়াটা জরুরি।
তথ্যসূত্র: ভেরি ওয়ের হেলথ, হেলথ লাইন
জেএস/