অনেকেরই নিজের অজান্তে বারবার মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস আছে। অনেকে মুখে কোনো ব্রণ বা ফুসকুড়ি উঠলে সেখানে বারবার স্পর্শ করেন। আবার ঠিকমতো হাত না ধোয়ার প্রবণতাও কম নয়।
অথচ এই ছোট অভ্যাসই হতে পারে ত্বকের ব্রণ ও ব্রণের দাগের বড় কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত পরিষ্কার না থাকলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্রণ তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।
দিনভর আমরা নানা জায়গায় হাত দিই - মোবাইল, দরজার হাতল, লিফটের বোতাম, টাকা, অফিসের কম্পিউটার ইত্যাদি। এসব জায়গায় জমে থাকা জীবাণু হাতের মাধ্যমে খুব সহজেই মুখে চলে আসে। এরপর সেই জীবাণু ত্বকের রন্ধ্রে প্রবেশ করে সংক্রমণ তৈরি করতে পারে, যার ফলে দেখা দেয় ব্রণ।
কেন হাত না ধোয়া ব্রণের ঝুঁকি বাড়ায়, তা বুঝতে হলে কিছু অভ্যাসে নজর দেওয়া জরুরি -১. বারবার মুখে হাত দেওয়া
অনেকেই চিন্তা করতে করতে বা অজান্তেই মুখে হাত দেন। হাত পরিষ্কার না থাকলে এতে ত্বকে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ হতে পারে।
২. মোবাইল ব্যবহারের পর মুখ স্পর্শ
মোবাইল ফোনে প্রচুর জীবাণু থাকে। ফোন ব্যবহারের পর হাত না ধুয়ে মুখে হাত দিলে সেই জীবাণু সরাসরি ত্বকে চলে যায়।
৩. ঘাম ও ময়লার সংস্পর্শ
গরমে ঘাম হলে অনেকেই হাত দিয়ে মুখ মুছেন। এতে হাতের জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
৪. মেকআপ বা স্কিনকেয়ারের সময় অপরিষ্কার হাত
মুখে ক্রিম বা মেকআপ দেওয়ার সময় হাত পরিষ্কার না থাকলে ত্বকের উপর সরাসরি ব্যাকটেরিয়া লাগতে পারে।
ব্রণ কমাতে কী করবেন?প্রথমত, বাইরে থেকে এসে বা কিছু স্পর্শ করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিনে কয়েকবার অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া উচিত। এতে জীবাণু দূর হয় এবং ত্বক সুরক্ষিত থাকে।
দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনে মুখে হাত দেওয়া কমাতে সচেতন হোন। এটি কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলানো সম্ভব।
তৃতীয়ত, নিয়মিত মোবাইল ফোন পরিষ্কার রাখুন। কারণ এটি ব্রণের অন্যতম লুকানো উৎস।
চতুর্থত, স্কিনকেয়ার বা মেকআপের আগে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করুন। এতে ত্বক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
মনে রাখবেন, ব্রণ শুধু হরমোন বা খাবারের কারণে হয় না - ছোট ছোট অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। তাই হাত পরিষ্কার রাখার মতো সাধারণ অভ্যাসই ত্বককে রাখতে পারে সুস্থ ও উজ্জ্বল।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি
এএমপি/জেআইএম