জাতীয়

অভ্যুত্থানকারীদের ওপর যে বাহিনীর পোশাকেই হামলা হোক, সবাই অপরাধী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকারী ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন, সেটা যে বাহিনীর পোশাকেই হোক এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ; যারা যে বাহিনীর পোশাকই পরুক, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। না হলে আপনারা করবেন এবং সব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের।’

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীর ভেতর থেকে অর্থাৎ আইন অমান্য করে পুলিশ যা কিছু করেছে, বিশেষত জুলাইয়ে পুলিশের অনেকে খুবই স্বপ্রণোদিত হয়ে নানা হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন, মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন। সেই বিষয়গুলোতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা কার্যক্রমের বাইরে এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভাগীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না? এবং এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ‘পুলিশ হত্যা’ নামের একটি অপশন ব্যবহার করে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ আছে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে আমরা জুলাই জাতীয় সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ নামের একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।’

‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছে, সেই বিষয়ে আমি আগেও বলেছি- তাহলে তো মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে রাজাকার হত্যার কারণে, যদি এখন কেউ মামলা নিয়ে আসেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা হানাদার বাহিনীর মতো আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছেন, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ আহত হয়েছেন, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে। কিছু মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং কিছু সাধারণ দণ্ডবিধির অধীনে আদালতে আছে। সেগুলো তদন্ত হচ্ছে, কিছু অভিযোগপত্রও হয়েছে। শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দু-একটা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। সেগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে তার বিচার পরিচালনা করবেন, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। দেশের সব গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই।

মামলা প্রত্যাহার

বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত গায়েবি ও মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা এবং গুম, খুন, অপহরণসহ নানা অনাচার-অবিচার এদেশের জনগণের ওপর হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কাজ হিসেবে আরও কিছু মামলা প্রত্যাহার করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে করা এসব মিথ্যা মামলা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সব মামলা ছিল না।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য ওই কমিটির কাছে আবেদন করা যাবে। কমিটি বাছাই করে সেটি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। এরপর আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি যে পরামর্শ দেবে, সেই মতে সিআরপিসি ৪৯৪ অনুসারে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এমওএস/একিউএফ