আইন-আদালত

ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের দিতে হবে ‘যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা’

কাজের গতি ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়াতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের (এএজি) পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন টেস্ট বা যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা নেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে কতজনকে এই পরীক্ষা দিতে হবে সেটি প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে ফোন করে বেশ কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে পরীক্ষায় অংশ নিতে ডাকা হয়েছে।

জানা গেছে, কর্মকর্তাদের দুর্বলতা ও কাজের গুণগত মানোন্নয়ন, কাজের গতি ও সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং কর্মচারীদের কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা জোগাতে এ পরীক্ষা প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাদের সাক্ষাৎকার নেবেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলসহ শীর্ষ চারজন আইন কর্মকর্তা। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে প্রধান করে চার সদস্য এই যাচাই-বাছাই কমিটি মৌখিক পরীক্ষা নেবে। অন্য তিনজন হলেন- অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভূইয়া, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিটার আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিটার অনিক আর হক।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সূত্রমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে ৬০ থেকে ৬৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ১৪৩ জন। আর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতে তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আরও নিয়োগ হয়।

নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আইনজীবীদের মধ্যে আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পর্কে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। এখানে আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবো।

গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।  

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা এখানে কোনো অবৈধ কাজ করছি না, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছি। এর আগে নোট বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পছন্দ মতো বেছে বেছে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ আছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনেরও অভিযোগ আছে। আমরা কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছি। আমার নিয়োগের পর থেকেই আমি এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি। তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করছি।  

নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্রই অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ হলো। অফিস কার্যকরভাবে চালাতে কী পরিমাণ আইন কর্মকর্তা প্রয়োজন, সরকার নিশ্চয়ই আগামী দিনে এ বিষয়ে চিন্তা করবে। আমরা দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। এটি একান্তই সরকারের সিদ্ধান্ত। আমাদের মতামত চাইলে আমরা মতামত দেবো।

এফএইচ/এমকেআর