নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা বাড়িয়ে বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করে সেবা খাতে নিয়ে আসা এবং জ্বালানি অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হলেই এই খাতকে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে পর্যাপ্ত ভূমিকা পালন করা যাবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। রুহিন হোসেন বলেন, একসময় সৌর (বিদ্যুৎ) নিয়ে অনেক কথা বলা হতো। খরচ নিয়ে কথা হতো। এখন পাশের দেশসহ অন্য জায়গায় সৌর দেখা যায়। আমরা ওই অর্থে ঢুকতেই পারলাম না। একটা সময় ছিল আমরা কিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ওই প্রজেক্ট বাংলাদেশের মধ্যে খরচ দেখানো হচ্ছে পার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ১২৫ টাকা পর্যন্ত পড়ে। তো কীভাবে করবো? এখন কিন্তু সেই দিন নেই। বড় বড় প্রজেক্ট করলেই এই জায়গাগুলো কমে আসবে। আমাদের পানিবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য জায়গাগুলো আমরা ধরলাম না। তার মানে নিজস্ব সক্ষমতার বিকাশ ঘটায়নি। পরে কী হয়েছে? আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে যে ভুলনীতি দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, এই ভুলনীতির বিপরীতে দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞসহ অন্যদের নিয়ে আমরা যথাযথ নীতি প্রণয়ন করবো কি না, যদিও এটার জন্য বেশি সময় লাগবে না, ক্যাবের ১৩ দফা আমরা এর দৃষ্টিভঙ্গিকে সাপোর্ট করি।
সিপিবি এই নেতা বলেন, আমরাও বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে এই আলোচনা কোনো সরকার করেনি। আগের সরকার বাদ দিলাম, অন্তর্বর্তী সরকারও করেনি। ভুলনীতি পরিত্যাগ করে এরকম জায়গায় যাবো কি না সেটাই আমার কাছে প্রধান প্রশ্ন। সেই ভুলনীতি পরিত্যাগের ক্ষেত্রে তাহলে সক্ষমতা আমাদের নিজস্ব বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই, ওইটাকে আমরা প্রধান পয়েন্ট করবো কি না সেটা হচ্ছে প্রধান দেখার পয়েন্ট মনে করি। আমরা এই খাতকে কী খাত হিসেবে রাখবো, আমরা কি এটা ব্যবসায়িক খাত, বাণিজ্য খাত, নাকি সেবা খাতের কথা বলবো, আমি এইটা ঠিক বুঝতে পারি না।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যবিত্তের অনেক ধরনের রোগের মধ্যে এরকম একটা রোগ আছে, যেমন আমরা অনেক ভর্তুকি দিচ্ছি, একটু দাম বাড়াইলে অমুক কী, তমুক কী— এটাই যেন অনেকের মধ্যে একটা আলোচনার বিষয় দাঁড়ায়। কিন্তু আমার মনটা খুবই খারাপ হয় যারা এই কথাগুলো বলছেন তারা কি এই তথ্য রাখেন না যে বিপিসি গত বছরে ৪০০ কোটি টাকার ওপরে লাভ করেছে। এই বছরেও তো লাভ করেছে।
বৈঠকে জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্যাব ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে।
এনএস/ইএ