সিরাজগঞ্জে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। তবে এ কার্ড সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আগামীকাল ১ এপ্রিল থেকে এই কার্ড ছাড়া জেলায় কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের। তাদের দাবি, এ কার্ড বিতরণ অনলাইন ও ইউনিয়ন এবং পর্যায়ে বিতরণ করলে এ লাইনে থাকা গ্রাহকদের ভোগান্তি থাকবে না।
এর আগে সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক সভায় জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২৪টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে। তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে গ্রাহকরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড সংগ্রহে ৩০ ও ৩১ মার্চ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে ৩০ তারিখ সন্ধ্যায় বিষয়টি জানানো হয়। দুইদিনের মধ্যে একদিন চলে যাওয়ায় আজ ভিড় বেড়েছে। তাদের দাবি, ভোগান্তি লাগবে মেয়াদ আরও দুয়েকদিন বাড়ানো হোক।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসসাদিক জামান জাগো নিউজকে বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হলে তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি কালোবাজারির চেষ্টা যারা করছে, তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
এম এ মালেক/কেএইচকে/জেআইএম