পিরোজপুর সদরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে তিন যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাই মহল এলাকার মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদরের সিকদার মল্লিক এলাকার অলি গাজী (২৪) এবং নাজিরপুরের শেখমাটিয়া এলাকার মারুফ গাজী (২৫)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজী ভিকটিম কিশোরীকে অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায় তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয় হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ ভিকটিম নাজিরপুরের মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ডে আসলে অলি ও মারুফ তাকে অপহরণ করে খুলনায় মিলনের কাছে পৌঁছে দেয়। পরে মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে গোপালগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে টানা ২০-২২ দিন ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কিশোরী পালিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বাবার কাছে ফোন করলে পুলিশসহ গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মনোজ সিংহ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।
পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার জানান, ১৩ বছর বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।
মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম