আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে কাঁপছে আরব অর্থনীতি, সম্ভাব্য ক্ষতি ২০ হাজার কোটি ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আরব দেশগুলো প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুতর আঘাত হানবে। ইউএনডিপি-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্পমেয়াদি সামরিক উত্তেজনাও আরব অঞ্চলে গভীর ও ব্যাপক সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাদের হিসাব অনুযাunয়ী, এই ক্ষতির ফলে অঞ্চলে বেকারত্বের হার প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে এবং আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সি (জিসিসি)-এর দেশগুলো (বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরব) তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশেরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। এই যৌথ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালায়।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কিত জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। সংঘাত চলাকালে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করায় কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে।

এরপর ২৫ মার্চ তারিখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, রাশিয়া, ভারত, ইরাক, চীন এবং পাকিস্তানের মতো বন্ধুসুলভ দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।

কেএম