আন্তর্জাতিক

প্রথমবারের মতো পাল্টা হামলার সক্ষমতা অর্জন করলো জাপান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের আঁচ জাপানেও লেগেছে। এর ধারাবাহিকতায় হামলা প্রতিহত এবং যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাপান তার গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের দুটি ঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোটোর এবং টোকিয়োর পার্শ্ববর্তী শিজৌকা এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়াশীল হামলার যন্ত্রাংশ স্থাপন করেছে। দেশের মাটিতে থাকা ঘাঁটি থেকে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে যাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো যায় তাই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুমামোটোর কেনগুন-এ ১,০০০ কিমি-এর বেশি রেঞ্জের টাইপ ১২ ল্যান্ড-বেসড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শিজুোকার ফুজি ঘাঁটি-এ কয়েকশ কিমি রেঞ্জের হাই-স্পিড গ্লাইড ভেহিকেল মোতায়েন করা হয়েছে।

টোকিও মনে করে, এই দুই ধরনের অস্ত্র সম্ভাব্য শত্রুর ঘাঁটিতে প্রতিক্রিয়াশীল হামলা চালানোর জন্য অপরিহার্য।

এর আগে জানানো হয়েছিল যে, বুস্ট-গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র ২০২৭-এর মধ্যে হোক্কাইডো এবং মিয়াজাকি অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ ২,০০০ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জের জন্য উন্নয়নাধীন রয়েছে।

ডিসেম্বর ২০২২-এ জাপানি সরকার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করে। এতে বিশেষ করে উল্লেখ আছে যে, সম্ভাব্য শত্রুর ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়াশীল হামলা চালানোর অধিকার আছে। একই সঙ্গে নথিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, উসকানিমূলক হামলা অনুমোদিত নয়।

প্রতিক্রিয়াশীল হামলার ক্ষমতা অর্জনের জন্য জাপান সরকার টাইপ ১২ ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে নিজস্ব হাইপারসোনিক অস্ত্র উন্নয়ন এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির জটিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি নতুন নিরাপত্তা নথির পুনঃপর্যালোচনা শুরু করেছিলেন।

এর আগে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সার্গেই রিভকভ জানিয়েছিলেন যে, তাকাইচির প্রশাসনের পুনঃসামরিকীকরণের নীতি শুধু নিরাপত্তা হ্রাস করবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, জাপানের সামরিকায়নের নীতিতে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান অনুরূপ। টোকিওর নীতি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

সূত্র: গ্লোবাল টাইমস

কেএম