জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর- ৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন। তিনি বলেন, অস্থায়ী সরকার তৈরি সংক্রান্ত সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভাঙার ফর্মুলা বা পদত্যাগের প্রক্রিয়া কখনো স্পষ্ট ছিল না। সেই সময়ে জনগণের অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রতি কেন্দ্রীভূত ছিল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল যেখানে ৩০-এর বেশি রাজনৈতিক দল ও জোট অংশগ্রহণ করেছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জুনায়েদ সাকি, নুরুল হক নূর, শাহাদাত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। আজ তারা সংসদে এসে সেই আলোচনা ভুলে গেছেন।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর অতীত বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণভোটের জনগণের রায় সংসদের সবাইকে মানতে হবে বলেছেন। তখন আইনমন্ত্রী ছিলেন এক্সপার্ট প্যানেলের সদস্য। আজ তারা এসে হরফ স্লোগান ও ব্যক্তিগত আপত্তি নিয়ে আলোচনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের উদ্দেশ্য ছিল নতুন বাংলাদেশ গঠন, যেখানে সরকারি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্বের মতো নিয়োগ হবে না। আমরা চাই জনগণের রায়কে সম্মান করা হোক। যে অধ্যাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ আছে, তা আইনগতভাবে বৈধ। দ্বিচারিতা অবলম্বন করলে জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি সরকার ও সংসদ সদস্যরা দলগতভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন মানেন, আর কোথাও প্রশ্ন উঠবে না। আমাদের কাছে সেটাই চাওয়া।
কেএইচ/এমআইএইচএস