অর্থনীতি

ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধন করে দেশে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রণয়ন করছে, যেখানে ই-সিগারেটসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়াটি শিগগির লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম তামাক ক্ষতি হ্রাসের একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘স্মোকিং অ্যান্ড ট্যোবাকো: অ্যাপ্লাইং অল আওয়ার হেলথ’ শীর্ষক নির্দেশিকায় ধূমপানকে জীবনধারাগত পছন্দ নয় বরং একটি নির্ভরতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার জন্য চিকিৎসা ও সহায়তা প্রয়োজন। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ধূমপায়ীদের ধূমপান ছাড়তে সহায়তা প্রদানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই নির্দেশিকায় ‘স্টপ স্মোকিং এইডস’র অংশে ই-সিগারেট বা ভেপকে ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সহায়ক মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি এটির কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের কথাও বলা হয়েছে।

একটি পদ্ধতিগত গবেষণায় দেখা গেছে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি যেমন প্যাঁচ ও গামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকরভাবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করতে পারে।

বেন্ডস্টার নেতারা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ নিষেধাজ্ঞা থেকে নীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

সংগঠনটির সভাপতি সুমন জামান বলেন, তরুণরা ই-সিগারেট ব্যবহার বন্ধ করেনি, বরং অবৈধ পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। সুনির্দিষ্ট আইন ও মনিটরিং থাকলে সরকার এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই বেশি ফলপ্রসূ। যথাযথ বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, বিজ্ঞাপন সীমাবদ্ধতা এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশরোধ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাজারকে অদৃশ্য করে দেয়, ফলে নিয়ন্ত্রণহীন কালোবাজার গড়ে ওঠে এবং পণ্য আরও সহজে তরুণদের হাতে পৌঁছে যায়। এ বাস্তবতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোই হতে পারে অধিক কার্যকর ও টেকসই সমাধান।

এমএএস/এমআরএম