বাংলাদেশের উদীয়মান লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশে (বিবিএল) নিজের প্রথম মৌসুমেই দারুণ সাফল্য পেলেন। হোবার্ট হারিকেন্স-এর হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতলেন দলের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার।
মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই লেগ-স্পিনার নিজের অভিষেক মৌসুমেই দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলিং অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিগ ব্যাশ লিগের ১৫তম আসরে রিশাদ ছিলেন হারিকেন্সের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি- পুরো টুর্নামেন্টে তিনি নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। তার বোলিং গড় ছিল ২০.৮৬, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি ৭.৮২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধু উইকেটই নয়, রান আটকে রাখার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পরের গুরুত্বপূর্ণ ওভারে তাকে আক্রমণে এনে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সফল হয় হারিকেন্স। তার ভ্যারিয়েশন, গুগলি এবং নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ বারবার ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেছে। পুরো মৌসুমে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল ২৬ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার যে স্পেলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তার ম্যাচ উইনার হয়ে ওঠার সামর্থ্যকে সামনে আনে।
এই সাফল্য রিশাদের জন্য এক দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্পও বটে। বিগব্যাশ লিগ-১৪-তে দলে সুযোগ পেলেও একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তবে এবারের আসরে সুযোগ পেয়ে সেটিকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন এবং দলের আস্থা অর্জন করেছেন।
পুরস্কার জয়ের দৌড়ে রিশাদ পেছনে ফেলেছেন তারই সতীর্থ নিখিল চৌধারি, নাথান এলিস এবং ক্রিস জর্ডান-এর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের। যা তার পারফরম্যান্সের গুরুত্ব ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।
সব মিলিয়ে, বিগ ব্যাশে এই অর্জন শুধু রিশাদ হোসেনের ক্যারিয়ারকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়নি, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও বড় ইতিবাচক বার্তা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার পথে এই তরুণ স্পিনার যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
আইএইচএস/