রাজনীতি

আমেরিকার সঙ্গে ইউনূস সরকারের ‘দেশবিরোধী গোপন চুক্তি’ বাতিল চায় সিপিবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা ‘দেশবিরোধী গোপন চুক্তি’ বাতিল করতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তিরও দাবি জানানো হয়েছে।   

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিলে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক পথসভায় সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই আমেরিকার কলোনি হতে দেওয়া যাবে না। যারা এই চুক্তি করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আগামী ৯ মের মধ্যে বিএনপি সরকারকে এই চুক্তি নাকচ করতে হবে।

আমেরিকার সঙ্গে ‘দেশবিরোধী গোলামির চুক্তি’ বাতিল করার দাবিতে প্রতিবাদী এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার ও মোতালেব হোসেন প্রমুখ।

হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, আমরা অন্য কোনো দেশ থেকে জ্বালানি কিনলে আমেরিকার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমরা বলতে চাই—এই যে গোলামির চুক্তি, এই যে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি, এই যে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা—এই প্রতারণা যারা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি বর্তমান সরকারের কাছে একটি অনুরোধ করতে চাই—এই চুক্তি স্বাক্ষরে যিনি ছিলেন, যিনি এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পেপারস তৈরি করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন—তাকে আপনারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিয়েছেন। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ এবং এই পদ থেকে তার অব্যাহতি চাই।

‘এই চুক্তি আগামী ৯ মে-র মধ্যে বাতিল করার সুযোগ আছে। এ ধরনের চুক্তি মালয়েশিয়া বাতিল করে দিয়েছে, আপনারাও (সরকার) বাতিলের উদ্যোগ নিন’—যোগ করেন এ সিপিবি নেতা।

মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হওয়া মানে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা অর্জন করেছি তার সার্বভৌমত্ব বলে আর কিছু থাকবে না। সব সিদ্ধান্ত ওই মার্কিন মুল্লুকের সাম্রাজ্যবাদের আজ্ঞাবহ হয়ে আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান জানাতে চাই—এখনো সময় আছে, গোলামির চুক্তি নাকচ করুন।

‘ইউনূস সরকার গোপনে চুক্তি করে গিয়েছিল নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। তার কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার ছিল না, আইনগত এখতিয়ারও ছিল না। ৯ মের মধ্যে সরকার যদি এটি নাকচ করে দেয় তবে চুক্তি অকার্যকর হয়ে যাবে’—যোগ করেন তিনি।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার বলেন, এই চুক্তিটি এমন এক চুক্তি যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বই নাই হয়ে যাবে। মানে বাংলাদেশ নড়তে-চড়তে পারবে না। এরই মধ্যে দেশের মানুষ দেখেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে অনুমতি চেয়ে আমেরিকার কাছ থেকে চিঠি লিখেছে সরকার—বলেছে, ভাই তুমি আমাকে অনুমতি দাও। বাংলাদেশ আজ এরকম একটা কলোনিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে কোনোভাবেই আমেরিকার কলোনি হতে দেবো না। আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাবো। আমরা দেশপ্রেমিক জনতাকে এই চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে নামার আহ্বান জানাই। এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নাই। যে কোনো মূল্যে এই চুক্তি বাতিল করতেই হবে।

ইএইচটি/এমকেআর