গাইবান্ধা জেলায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ শিশু। এর মধ্যে তিনজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
সকালে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে তিনজনই শিশু। তাদের হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের আইসোলেশনে ভর্তি করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরামের আরিফ মিয়ার শিশু ছাব্বির (৬), গাইবান্ধা সদর উপজেলার শিবপুরে বেলালের শিশু তাসিন (৪), মালীবাড়ী শরীফের শিশু মারুফ (৫)। এছাড়া ৬ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছেন।
অভিভাবকরা জানায়, প্রথমে সর্দি, জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন তারা, পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
হামের রোগী মারুফের বাবা শরিফ বলেন, গত আটদিন আগে জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে ভালে না হওয়ায় পরে হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন মোটামুটি রোগী ভালো আছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ বলেন, হামের লক্ষণ নিয়ে এসেছে ৯ জন রোগী। তারা সবাই শিশু রোগী। ৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছে। আর তিন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হয়ে আসছেন তাদেরকেও আমরা আলাদা রাখছি। অন্য রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেটি ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। তাই বিশেষ আইসোলেশন তৈরি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া আমাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগের ধরণ দেখে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। এ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
আনোয়ার আল শামীম/এনএইচআর/এএসএম