দেশজুড়ে

ময়মনসিংহে গরুর জিহ্বা কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা একটি গরুরের জিহ্বা কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ আছিম পাটুলি ইউনিয়নে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খামারে থাকা গরুটির জিহ্বা কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খামার মালিক আকরাম নিজের খামারে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি গরু লালনপালন করে আসছেন। কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানিদাতাদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে কয়েকটি গরু প্রস্তুত করছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গরুগুলোতে খাবার দিয়ে খামারের পাশেই বাড়িতে যান আকরাম। রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সাড়ে ৯টার দিকে আবার বিদ্যুৎ আসে। বিদ্যুৎ আসার পর আকরাম হোসেন খামারে গিয়ে দেখতে পান- খামারের সবচেয়ে বড় গরুটির মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। পাশেই পড়ে রয়েছে জিহ্বার কাটা অর্ধেক অংশ। এমতাবস্থায় রাতেই ১ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করে দেন তিনি। পরে বুধবার সকালে স্থানীয় পিডিবি বাজারে গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, কাটা জিহ্বা হাতে নিয়ে লোকজনকে দেখিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন খামার মালিক আকরাম হোসেন। এমন দৃশ্য দেখে খুব মায়া লেগেছে। শত্রুতা থাকলে খামার মালিকের সঙ্গে থাকতে পারে। গরুর জিহ্বা কাটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

খামার মালিক আকরাম হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। আমি গরু লালন-পালন করেই সংসার চালাই। প্রতি কোরবানি ঈদে গরু বিক্রি করি। জিহ্বা কাটার কারণে গরুটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। আমিও এ দৃশ্য সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই বিক্রি করে দিয়েছি। পরে জবাই করা হয়। এ ঘটনার বিচার নিশ্চয়ই আল্লাহ করবে।

আছিম পাটুলি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, খামারিদের গরুগুলো অনিরাপদ থাকলে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। খামারিদের মধ্যে যেনো আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়- সে জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনা যে বা যারা ঘটিয়েছে, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনাক্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এনএইচআর/এএসএম