জাতীয়

সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন মেহেত মামুন। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনপত্রে মেহেত মামুন উল্লেখ করেন, তার বাবা সারা জীবন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করে সাংবাদিক সমাজকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন। এ কারণে বিভিন্ন সময় তাকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড় বছর কারাভোগ করেন।

মেহেত মামুন অভিযোগ করেন, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর একটি ‘মিথ্যা মামলায়’ শওকত মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে এক কাপড়ে তুলে নিয়ে এমন একটি মামলায় যুক্ত করা হয়, যার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পরে একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবারও আগের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যা হয়রানিমূলক।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, কারাবন্দী অবস্থায়ও শওকত মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

শওকত মাহমুদের মেয়ে দাবি করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তার বাবাকে একের পর এক মামলায় জড়াচ্ছে। এমনকি আওয়ামীপন্থি কিছু ব্যক্তির আয়োজিত একটি ঘটনার সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে ‘জঘন্যতম মিথ্যাচার’ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে নানা কারণে দলীয় পদ হারালেও শওকত মাহমুদ বিএনপির আদর্শের প্রতি আপসহীন ছিলেন এবং কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তা স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।

বিজ্ঞপ্তিতে শওকত মাহমুদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, ৩ ডিসেম্বর তিনি ‘বেগম জিয়া এখন কী ভাবছেন’ শীর্ষক একটি কলাম লিখেছিলেন। এর আগে ৬ আগস্ট নির্বাচনের সময় ঘোষণা উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেন। এছাড়া ২৯ মে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্বাধীনতার প্রধান ব্যক্তিত্ব জিয়া’ শীর্ষক পোস্ট ছিল।

পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে মেহেত মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলার কারণে পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটিয়েছে। বাসাভাড়া, পরিষেবা বিল পরিশোধে ব্যর্থতা এবং সংসার চালাতে ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

তিনি আরও জানান, শওকত মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। তার ২০০৪ সালে ছয়টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালে দুটি এবং ২০২২ সালে আরও দুটি স্টেন্ট বসানো হয়। বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওপিডি, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। রিমান্ডে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৬ জানুয়ারি তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং রিউমাটোলজি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারাবন্দী অবস্থায় শওকত মাহমুদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে। শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের জীবনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বাবার মুক্তির বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার আহ্বান জানান এবং বলেন, প্রয়োজন হলে তার বাবা নিজের সব ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কারাগারেই শওকত মাহমুদের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

এমএএস/একিউএফ