প্রশ্ন: বাগদানের সময় বিয়ের আকদ হয়ে গেছে কিন্তু বিয়ের সরকারি রেজিস্ট্রেশন হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়েও দেওয়া হয়নি এই অবস্থায় বর-কনে একসঙ্গে ওমরায় যেতে পারবেন?
উত্তর: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ের আকদ হয়ে যাওয়ার পর বর-কনে স্বামী-স্ত্রী গণ্য হন; বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না হলেও এবং কনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো না হলেও তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে ওমরাহ বা হজসহ যে কোনো সফরে যেতে পারবেন।
তবে বাগদানের সময় যদি শুধু আংটি পরানো হয়, আকদ না হয়, তাহলে তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য হবেন না, পরস্পরের জন্য গায়রে মাহরাম থাকবেন এবং তাদের একসঙ্গে ওমরাহ বা অন্য কোনো সফরে যাওয়া জায়েজ হবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, নারীরা মাহরাম ছাড়া সফর করবেন না। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আকদ ছাড়া বাগদানের পর বর-কনেকে অনাত্মীয় নারী-পুরুষের মতো পরস্পরের মধ্যে পর্দার বিধানও মেনে চলতে হবে।
ইসলামে বিয়ের আকদের জন্য অপরিহার্য হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুল করা অর্থাৎ এক পক্ষ ইজাব করা বা প্রস্তাব দেওয়া, আরেক পক্ষ গ্রহণ করা বা কবুল করা। সাধারণত বিয়ের ইজাব বা প্রস্তাব করা হয় কনেপক্ষের তরফ থেকে আর বর প্রস্তাব কবুল করেন। অভিভাবক যদি কনের সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেন এবং বর ‘কবুল করলাম’ বলেন, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।
বিয়ের আকদের মজলিসে খুতবা পাঠ করা মুস্তাহাব। রাসুল (সা.) বিয়ের আকদের আগে খুতবা পাঠ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) বিয়ের সময় খুতবা পাঠ করতে শিখিয়েছেন অর্থাৎ ইজাব কবুলের আগে আল্লাহর হামদ ও সানা পড়া এবং পবিত্র কোরআনের তিনটি আয়াত পড়া; আয়াতগুলো হলো, যথাক্রমে সুরা নিসা: ১, সুরা আলে ইমরান: ১০২ এবং সুরা আহজাব: ৭০, ৭১। (সুনানে আবু দাউদ: ২১১৮) এ ছাড়া বিয়ের ব্যাপারে ইসলামের দিক নির্দেশনা ও পাত্র-পাত্রীর উদ্দেশে নসিহতও বিয়ের খুতবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বিয়ের আকদের সময় খুতবা পড়া ওয়াজিব নয়। খুতবা আকদের অপরিহার্য অংশ নয়। কোনো বিয়ের মজলিসে যদি খুতবা না পড়া হয় বা হাদিসে বর্ণিত হামদ-সানা ও আয়াতগুলো যথাযথভাবে না পড়া হয়, তবুও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।
ওমরাহর সফরে স্বামী-স্ত্রীর যৌনমিলনের বিধানওমরাহর ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মিলন নিষিদ্ধ। ওমরাহ পালনের পর হালাল হয়ে গেলে অর্থাৎ তাওয়াফ ও সাঈ করে মাথা মুড়িয়ে বা চুল ছেটে ফেলার পর মক্কা বা মদিনায় অবস্থান করলেও মিলন জায়েজ।
হজের বেলায়ও একই বিধান, ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী মিলিত হওয়া নিষেধ। হজের সব কাজ শেষ করে হালাল হয়ে গেলে মিলন জায়েজ হয়ে যায়।
ওমরাহ বা হজের সফরের সময় ইহরাম বাধার আগে বা ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর মিলনে কোনো বাধা নেই। ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ অন্য অনেক বিষয়ের মধ্যে দৈহিক মিলনও অন্যতম প্রধান নিষিদ্ধ বিষয়।
ওএফএফ