বিনোদন

রাহুলের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা, মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ৩ দিন পর মুখ খুলল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। একাধিক বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোডাকশন ইউনিটের সদস্যদের বক্তব্যে অসঙ্গতির জেরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে থাকায় সবার বক্তব্য সংগ্রহে আরও কিছু সময় প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে নিরপেক্ষ থাকে, সে জন্য রাহুলের পরিবার, বন্ধু কিংবা আর্টিস্টস ফোরামের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় সংস্থার পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বাইয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত কলকাতায় ফিরে রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। যদিও শোকাহত পরিবারের সদস্যরা তখন কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তবুও পরিবারের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সংস্থা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাহুলকে উদ্ধারের পর কী হয়েছিল, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। তাদের দাবি, পানি থেকে তোলার সময় অভিনেতা জীবিত ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। তাকে দ্রুত কূলে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করা হয় এবং নিকটবর্তী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পরে দীঘা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে-ঠিক কতক্ষণ পানির নিচে ছিলেন রাহুল, যার ফলে তার ফুসফুসে পানি ও বালি ঢুকে যায়। এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

আরও পড়ুন:মাসে সাড়ে ৬ লাখ রুপিতে বাংলো ভাড়া দিয়ে চমক সালমান-নয়নতারার পর যোগ দিচ্ছেন অনিল কাপুর 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাকে প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার হিসেবেও কটাক্ষ করা হচ্ছিল। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে তিনি শুধুমাত্র ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে যুক্ত এবং প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বে নেই। পাশাপাশি, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি রাজ্যের নারী কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্কের আবহে এখন সবার নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকেই।

এমএমএফ