দেশজুড়ে

শিল্পের উৎপাদন জ্বালানির কারণে কমার সুযোগ নেই

জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, শিল্পের উৎপাদন জ্বালানির কারণে কমার সুযোগ নেই। কারণ যেসব শিল্প গ্যাসে পরিচালিত হয় সেগুলোতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেই অন্য হিসাব করা হয়। সেভাবেই জ্বালানি মন্ত্রণালয় তার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত রেখেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিলেটে বিকেলে নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এলপি গ্যাসের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব জায়গা থেকে এলপি গ্যাস আমদানি করা হয়, সেখানেই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও দাম বেড়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে ততক্ষণ জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে আমাদের একটি ‘ইকোনমিক পার্টানারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ সই হয়েছে। সেটি এখনো সংসদে পাস হয়নি। সেটি পাস হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এ চুক্তি পাস হলে আগামীতে জাপানি বিনিয়োগে বেশি বেশি আকৃষ্ট করা হবে।

জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যক্তি স্বার্থে নয়, দেশের সব মানুষের স্বার্থে যেন জ্বালানি ব্যবহারে আমরা সাশ্রয়ী হই। জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ বিষয়ে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যদি ঠিক করি যে আমরা সতর্ক থাকবো এবং অহেতুক বিপদে পড়বো না তাহলে সবই স্বাভাবিক থাকবে। ছয়টার পর থেকে পিক আওয়ার শুরু হয়। সেই সময়টা যদি আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি তাহলে বাড়তি খরচ থেকে আমরা রক্ষা পাবো। যেটা আমরা সেভ করলাস সেটা লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবো। এটাই স্বাভাবিকতা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে এক ঘণ্টা কম-বেশি হয় শীত এবং গরমের সময়। ডে লাইট সেভিংসের জন্য। আমরা কিন্তু সেটা করি না। এখন আপদকালীন পরিস্থিতিতে আমরা কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা সবাই এই পদক্ষেপগুলোকে প্রতিপালন করে শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় দেবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ভারপ্রাপ্ত রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, এহতেশামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সচিব নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, আব্দুল হাদি পাভেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

আহমেদ জামিল/এমকেআর