একটি শিশুকে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয় হামের টিকা। ময়মনসিংহে টিকা সংকট না থাকায় এই টিকা যথাসময়ে প্রয়োগ করেছে বলে দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের। তারপরও হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে যেসব শিশু আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অনেকেরই হামের টিকার সময় হয়নি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরই মধ্যে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। আর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দুজন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগী বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ১৭ মার্চ থেকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮১ শিশু ভর্তি হয়। বর্তমানে ভর্তি আছে ৬৭ জন শিশু। সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। হাম রোগীদের চিকিৎসায় গত ২৪ মার্চ পৃথক হাম কর্নার চালু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সোমবার (৩০ মার্চ) হাসপাতালের আটতলার কেবিন এলাকায় ৬৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।
টিকার চাহিদা ও সংকটপ্রতি তিন মাস পর পর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টিকার চাহিদা পাঠানো দহয়। সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চাহিদা অনুযায়ী কোনো বছর কম টিকা এসেছে, আবার কোনো বছর যৎসামান্য বেশি এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের (২০২৬ সাল) ১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ময়মনসিংহ জেলার জন্য এম আর (হামের টিকা) টিকার চাহিদা পাঠানো হয় ২১ হাজার ভায়াল। (১ ভায়াল হচ্ছে ৫ ডোজ)। সে অনুযায়ী ১ লাখ ৫ হাজার শিশুকে ডোজ দেওয়া যাবে। ২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ময়মনসিংহ জেলা ইপিআই ভবনে সরবরাহ করা হয়েছে ৩ হাজার ভায়াল। ইপিআই ভবনে আগে থেকে সংরক্ষিত ছিল ১৬ হাজার ভায়াল। সে অনুযায়ী মোট ১৯ হাজার ভায়াল দিয়ে ৯৫ হাজার ডোজ ৯৫ হাজার শিশুকে দেওয়া যাবে। এ হিসাবে ১৫ হাজার শিশুর জন্য টিকা আসেনি।
‘তিন মাসের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত হামের এম আর টিকা কম এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যে আবারো ২১ হাজার ভায়াল চাহিদা পাঠানো হবে। টিকা কম এলে মাঠ পর্যায়ে এর আরও বেশি প্রভাব পড়ে।’
এর মধ্যে জেলা ইপিআই কার্যালয়ে থাকা ১৯ হাজার ভায়ালের মধ্যে এরই মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ ভায়াল ময়মনসিংহ জেলা ইপিআই ভবন থেকে নিয়ে গেছেন ১৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারীরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই বরাদ্দ দিয়েছে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের জন্য। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আবার চাহিদা পাঠাবে জেলা ইপিআই কার্যালয়।
২০২৫ সালে জেলায় এম আর টিকার চাহিদা পাঠানো হয় ৮৪ হাজার ভায়াল। কিন্তু ময়মনসিংহ জেলা ইপিআই ভবন পায় ৮২ হাজার ৫০০ ভায়াল। ২০২৪ সালে আনুমানিক চাহিদা ছিল ৭৭ হাজার ৫০০ ভায়াল। আসে ৬০ হাজার ৯০০ ভায়াল। ২০২৩ সালে আসে ৯০ হাজার ভায়াল। ২০২২ সালে আসে ৮৫ হাজার ভায়াল। ২০২১ ও ২০ সালে চাহিদা অনুযায়ী হামের এম আর টিকা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সালের নথিপত্র দেখা যায়নি। তবে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পেন্টা ও পিসিভি এবং ওপিভি কম এসেছে। চার বছর যাবত এসব টিকা না আসায় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন, এসব টিকার সংকট রয়েছে।
স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতিতে ব্যাহত টিকাদান কর্মসূচিগত বছর নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতনবৈষম্য দূরীকরণ ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। তিন দফায় কর্মবিরতিতে যাওয়ায় টিকা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে অনেকটা সময় টিকাগ্রহণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয় শিশুরা। এ কর্মবিরতির কারণে দেশের মা ও শিশুরা মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ে। তবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত হন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কর্মবিরতির পর স্বাস্থ্য সহকারীরা কর্মস্থলে ফিরে টিকাদান কর্মসূচি আবারো শুরু করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কর্মবিরতির কারণে কিছুটা হলেও টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরা। এছাড়া কোভিড- পরবর্তী সময়ে ড্রপ আউটের কারণে অনেক শিশু প্রথম ডোজ টিকা পেলেও দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। ২০২৪ সালের আগস্টেও টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়াসহ এক শিশুর মাধ্যমে অন্য শিশু আক্রান্ত হয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
জনবল সংকট প্রকটজেলায় স্বাস্থ্য সহকারী (মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী) প্রয়োজন ৭১১ জন। এরমধ্যে কর্মরত আছেন ৪৮০ জন। শূন্য পদ রয়েছে ২৩১টি। এ কারণে একদিকে স্বাস্থ্য সহকারীদের ওপর টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বস্তি এলাকাগুলোর সব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পেয়েছে কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‘অনেক অভিভাবক এখনো অসচেতন। তারা শিশুদেরকে টিকা দিতে চায় না। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ বেশি অসচেতন। তবে টিকা সরবরাহে কখন যেন ঘাটতি না থাকে, সেজন্য সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ভবিষ্যতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। একইসঙ্গে অবিভাবকদের সচেতনতার ওপরও নির্ভর করে আক্রান্তের সংখ্যা। কারণ হামে আক্রান্ত এক শিশুর মাধ্যমে অন্য শিশুও আক্রান্ত হয়ে যায়।
ইপিআই কর্মকর্তা ও কর্মীরা কী বলছেন?জেলা ইপিআই কার্যালয়ের স্টোর কিপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বিভিন্ন টিকা বরাদ্দ ও সরবরাহের নথিপত্র ঘেঁটে জানান, তিন মাসের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত হামের এম আর টিকা কম এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যে আবারো ২১ হাজার ভায়াল চাহিদা পাঠানো হবে। টিকা কম এলে মাঠ পর্যায়ে এর আরও বেশি প্রভাব পড়ে। কারণ টিকা ডায়লুয়েন্ট করতে হয় (পানি মিশিয়ে ডোজ তৈরি করা)। এক ভায়াল দিয়ে ৫ ডোজ তৈরি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ- কোনো কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার উপযোগী ১১ শিশু থাকলে স্বাস্থ্য সহকারীদের (মাঠকর্মী) তিন ভায়ালে ১৫ শিশুর জন্য ১৫ ডোজ তৈরি করতে করতে হয়। এক্ষেত্রে চার ডোজ ফেলে দিতে। এছাড়া ডোজ তৈরির পর থেকে এটির মেয়াদ থাকে ৬ ঘণ্টা। এরমধ্যে টিকা না নিতে এলে তৈরি করা ডোজগুলো ফেলে দিতে হয়। এভাবে অনেক টিকা নষ্ট হয়।
তিনি জানান, তিন বছর ধরে পেন্টা, পিসিভি এবং ওপিভি টিকার সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা পাঠালে সে অনুযায়ী দিতে পারছে না। ফলে এগুলো সরবরাহও তেমনভাবে করা যাচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী টিকা না পাওয়ায় স্বাস্থ্য সহকারীরা প্রয়োগ করতে পারছে না। এতে ঝুঁকিতে পড়েছেন অনেকেই। তবে অন্যান্য টিকার সরবরাহ রয়েছে।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইশ্বরদিয়ার তিনটি কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারী (স্বাস্থ্যকর্মী) মুর্শিদা খাতুন। তিনি বলেন, আমি কখনোই দায়িত্বে অবহেলা করিনি। যখন যে পরিমাণ টিকা আসে, তা সঠিকভাবে যথাসময়ে কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের দেওয়া হয়। কোনো শিশুর অভিভাবক তাদের শিশুকে টিকা দেওয়ার নির্ধারিত সময় জানার পরও গুরুত্ব না দিয়ে, না এলে তো আমাদের কিছুই করার নেই। তবে আমরা যতটুকু পারি, প্রচারণা করতে চেষ্টা করি। এজন্য অনেককে আগেই টিকা দেওয়ার সময় জানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আমাদের মোবাইল নম্বরগুলোও অনেক অবিভাবকদের দিয়ে আসি।
সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, অনেক অভিভাবক এখনো অসচেতন। তারা শিশুদেরকে টিকা দিতে চায় না। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ বেশি অসচেতন। তবে টিকা সরবরাহে কখন যেন ঘাটতি না থাকে, সেজন্য সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেশে ১২টি রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বয়সি শিশুদের দেওয়া হয় সাতটি টিকা। বিসিজি টিকা দেওয়া হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধে; পেন্টা টিকা দেওয়া হয় ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধে; ওপিভি টিকা দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; আইপিভি দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা; হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকা এবং টিসিভি টিকা দেওয়া হয় টাইফয়েড প্রতিরোধে।
দুটি টিকা দেওয়া হয় নারীদের। এর মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সি কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এবং প্রজননক্ষম ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের ধনুষ্টংকার ও ডিপথেরিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় টিডি নামের টিকা। মাঠপর্যায়ে টিকার স্বল্পতা ও জনবল ঘাটতির কারণে অনেকেই ঠিকমতো টিকা পাচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে বর্তমান চিত্রশুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা গেছে, ৬৭ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। লাইন ধরে শিশুদের নেবুলাইজ করা হচ্ছে। অক্সিজেনও দিতে হচ্ছে অনেক শিশুকে। অভিভাবকদের চোখেমুখে চিন্তার ছাপ। কারণ এরই মধ্যেই তারা জানতে পেরেছেন- হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। একটু পর পর চিকিৎসককে ডেকে এনে শিশুর অবস্থা দেখাচ্ছেন অভিভাবকেরা। যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে চেষ্টার কমতি রাখছে না চিকিৎসক ও নার্সরা।
সাজেদা বেগম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুরের বাসিন্দা। তিনি ২৯ মার্চ সাত মাস বয়সি ছেলে আয়ানকে নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, শিশুর প্রথমে ঠান্ডাকাশি ও পরে হাম বের হয়। এমতাবস্থায় এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো ছেলেকে বুকের দুধও খাওয়াতে পারছি না। দুধ খাওয়াতে গেলেই খিঁচুনি হয়। ফলে দুশ্চিন্তায় আছি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না, তা সঠিক সময়ে সঠিক শিশুর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচির কার্যকর তদারকি জরুরি। মাঠকর্মীর সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮২ ভাগ শিশুই ময়মনসিংহের। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী শরীরে র্যাশ, জ্বর, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও মুখে ঘায়ের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ৯ মাসের কম বয়সি শিশুদের হাম হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, বাচ্চা মায়ের কাছ থেকে হামের পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি পায়নি এবং পর্যাপ্ত বুকের দুধ খায়নি। অন্য কারণ থাকতে পারে, সেগুলো গবেষণা সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কী বলছেন চিকিৎসকরা?হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নিয়েছে এবং নেয়নি, দুই ধরনের রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সি রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, হামের লক্ষ্মণ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুর নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইপিএইচ) পাঠাই। সেখান থেকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাম কর্নার সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী (মাঠকর্মী) নেই। প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্য সহকারী না থাকায় একটি একটু জটিলতা রয়েছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে হাম আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায়জেলার প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, অনেক শিশু ৯ মাসের আগেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা তো দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। টিকা দেওয়ার বয়সের আগেই হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টি করছে। হামে আক্রান্ত এক শিশুর মাধ্যমে অন্য শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়া বা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। এত কম বয়সি শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণ উদ্ঘাটনে গবেষণারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক করছি।
এফএ/এএসএম