জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে খাগড়াছড়িতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত প্রায় ৪ হাজার মোটরসাইকেল চালক। পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আয় কমে গেছে এ পেশায় জড়িত হাজারো চালকের। এতে করে জীবন-জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও নির্ধারিত পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন চালকরা। পাহাড়ি এই জেলায় গণপরিবহন সংকট থাকায় যাত্রীদের অন্যতম ভরসা ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহের প্রভাব পড়ায় স্থানীয়ভাবে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।
খাগড়াছড়ির মোটরসাইকেল চালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় করতাম। এখন তা কমে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নেমে এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে।’
আরেক চালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেলের ভাড়া দিয়ে আমার সংসার চলে। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় তেল নিতে চলে যাচ্ছে। অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২ লিটার তেল পাচ্ছি। এই তেল দিয়ে কিছুই হয় না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
একই অভিযোগ করেন আরেক চালক সুমন চাকমা। তিনি বলেন, সবসময় তেল পাওয়া যায় না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই দিন শেষ হয়ে যায়। যাত্রী পরিবহনের সময়ই পাই না।
এদিকে ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, তারা কোনো ধরনের তেল মজুত করছেন না। ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
খাগড়াছড়ির কে.সি. ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রাজেশ দে বলেন, আমরা কোনো তেল মজুত করছি না। ডিপো থেকে যে পরিমাণ তেল পাই, তা দ্রুতই গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করছি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
তিনি বলেন, যাদের একান্তই তেল প্রয়োজন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও চান্দের গাড়ির চালকরা যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পায়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রবীর সুমন/এফএ/এএসএম