প্রবাস

আমিরাতে অর্থনীতি: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু

মাহাফুজুল হক চৌধুরী, আবুধাবি, আরব আমিরাত

চলমান ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের বহুমুখী সংঘাত পুরো বিশ্বকে এক থমথমে পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর যে কোনো আঘাত আসা মানেই তার তিক্ত ফল পুরো বিশ্বকে ভোগ করতে হওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বহির্বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সারা বিশ্ব একটি বাণিজ্যিক ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করে। মালামাল ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থা—সবকিছুতেই আরব আমিরাত অপরিহার্য। দেশটিতে গত এক মাস ধরে চলা ধারাবাহিক হামলা যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই যুদ্ধ শুধু নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের নয়, বরং এর মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে আমিরাতের স্থিতিশীলতা। যদিও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমিরাত শক্তিশালী, কিন্তু এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পিষে ফেলছে এখানকার প্রবাসী শ্রমিক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

এতদিন বড় বড় কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শ্রমিকদের বেতন চালিয়ে নিতে পারলেও, সামনের দিনগুলো নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদি আগামী ৩-৪ মাস এই অবস্থা চলতে থাকে, তবে অধিকাংশ কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে। এরই মধ্যে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আমিরাতে একটি ছোট প্রতিষ্ঠানের মাসিক পরিচালনা খরচ ১০ লাখ টাকারও বেশি। ব্যবসা সচল থাকলে এই খরচ সামান্য মনে হলেও, অচল অবস্থায় এই বিশাল বোঝা বহন করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম, বাসা ভাড়া, গাড়ির খরচ এবং ভিসার খরচসহ যাবতীয় সরঞ্জামের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঠিকাদাররা কাজ পেলেও লাভের মুখ দেখছেন না। মূলত আরব আমিরাত টিকে আছে তাদের উদার ‘বিজনেস পলিসি’ বা ব্যবসা নীতির কারণে। এখানে আমদানি-রপ্তানিতে বিশেষ ছাড় ও ট্যাক্স সুবিধা থাকায় বিশ্বজুড়ে পণ্য সস্তায় কেনাবেচা করা যেত। কিন্তু সেই চেইন এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে।

আরব আমিরাতের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পৃথিবীর কোনো দেশই অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে পুরো বিশ্বকে চরম হিমশিম খেতে হবে। এটি কেবল ইরানের সঙ্গে আমেরিকা বা আমিরাতের যুদ্ধ নয়; এই যুদ্ধ যেন পুরো বিশ্বকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার এক নীল নকশা। এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ না হলে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অচিরেই ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে।

এমআরএম/এএসএম