থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু জয়ের আশা জাগিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা ওই ম্যাচ হেরে যায় ৩-২ ব্যবধানে।
দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোল হজম না করে ভালো কিছু করার আশা জাগিয়েও পারেনি পিটার বাটলারের দল। হেরেছে ২-০ গোলে।
তিন ম্যাচের প্রথম দুটিতে হেরে এএফসি নারী অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলে কেবল সমীকরণে টিকে থাকতে পারবে বাংলাদেশ।
শনিবার থাইল্যান্ডে চীনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিরোধ করে এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে গোল আদায় করতে পারেনি চীন।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে চীন চাপ আরও বাড়ায়, তাতেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের সব প্রতিরোধ। দুই মিনিটের মধ্যেই গোল আদায় করে এগিয়ে যায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দলটি।
৪৭ মিনিটে ইউ জিয়াংইউ ও ৮২ মিনিটে ওয়াং আইফাংয়ের গোল ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। বাংলাদেশের লক্ষ্যই ছিল প্রতিরোধ গড়া। গোলের সুযোগ তেমন তৈরি করতে পারেনি। শেষ দিকে দ্বিতীয় গোল না খেলে বাংলাদেশ ন্যুনতম ব্যবধানে হারের সান্ত্বনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো।
এক মাস আগে বাংলাদেশ ও চীনের দেখা হয়েছিল জাতীয় দল পর্যায়ে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এএফসি এশিয়ান কাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল চীন।
বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা বলে বাংলাদেশকে নিয়ে একটু আশা ছিল। আগের রাতে মালদ্বীপে অনূর্ধ্ব-২০ ছেলেরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতকে হারিয়ে। সেই অনুপ্রেরণা হয়তো ছুঁতে পারেনি আফঈদা-সাগরিকাদের। কারণ এই মঞ্চের লড়াইয়ে দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল অনেক। মাঠে নামার আগেই ফেবারিট ছিল চীনের মেয়েরা।
পুরো ম্যাচে বৃষ্টির মতো চীনের আক্রমণ ছিল। বাংলাদেশের রক্ষণ তারা ভেদ করলেও শেষ বাধা হিসেবে ছিলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। এক কথায় তিনি চীনের সামনে দেয়াল হয়েছিলেন। প্রথমার্ধে গোটা চারেক সেভ মিলি করেছেন দুর্দান্ত। এক কথায় বাংলাদেশ যে ম্যাচটাকে গোলহীনভাবে দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ে যেতে পেরেছে, তার বেশিরভাগ কৃতিত্ব গোলরক্ষকের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ওলটপালট হয়ে যায় সব। খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোললাইনের খুব কাছ থেকে ইউ জিংগুয়ে বল ঠেলেন জালে। ৮২ মিনিটে ওয়াং আইফাংয়ের নিখুঁত ফ্রি–কিক জালে জড়ালে স্কোরলাইন ২-০ হয়। বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার বলে হাত লাগালেও গোল আটকাতে পারেননি।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ গ্রুপ ম্যাচ ৭ এপ্রিল। ওই ম্যাচ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সমীকরণ টিকে থাকবে বাংলাদেশের। হারলে সিনিয়র দলের মতো অনূর্ধ্ব-২০ এর মেয়েরাও ছুটি নেবেন গ্রুপ পর্ব থেকে।
আরআই/এমএমআর