লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) ও জুলাই ফাইটার্স নাম দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনের জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাসহ বৈছাআ'র নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে ছাত্রদল জানিয়েছে, ছাত্রদলের কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। জুলাই ফাইটার্সের কর্মসূচি ছিল। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈছাআ'র নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বৈছাআর জেলা আহ্বায়ক আরমান হোসাইন, মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিয়ান রায়হান ও সদস্য হাবিবুর রহমান ফাহিমসহ বেশকয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
আরমান বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে ফাহিমের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। ফেসবুকেও লেখালেখি করেছি। তবুও কেউ এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিই। এখানে এমন কোনো পরিস্থিতি ছিলো না, যে ১৪৪ ধারা জারি করতে হবে। জুলাই ফাইটার্স নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ ডাকে। এ সংগঠনের নাম আগে শুনিনি। তবে এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম।
১৪৪ ধারা ভঙ্গে আটক হয় বৈছাআ নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ। পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে মুরাদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করার আগে তাদের লোকজন ঘটনাস্থল আসে। এতে নামাজ পড়ে বের হয়ে তিনি তাদের ম্যানেজ করছিলেন। হঠাৎ করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা করে। যদিও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা গেছে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ের হাতাহাতির ঘটনা এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেইনি তারা।
এ ব্যাপারে সদর (পূর্ব) উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বাবু বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এজন্য ১৪৪ ধারা জারি করায় আমরা ঘটনাস্থল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে চলে এসেছি। সমন্বয়ক পরিচয়ে তারা মব সন্ত্রাস করে আসছে। তারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেনি। ছাত্রদল কখনো মববাজ ও চাঁদাবাজদের প্রশ্র্য দেয়নি, দিবেও না।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, এখানে ছাত্রদলের কোন কর্মসূচি ছিল না। জুলাই ফাইটার্সের প্রোগ্রাম ছিল। আমরা কারো সঙ্গে বিরোধে জড়ায়নি। বৈষম্যবিরোধী পরিচয়দানকারীরাই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হামলা চালিয়েছে। এতে পুলিশ তাদেরকে প্রতিহত করেছে। এখন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল অবস্থান করে দু’পক্ষকে দুইদিকে সরিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে কেউ আটক নেই।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। এর প্রতিবাদে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫ টায় চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে একই সময় ওইস্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এ প্রেক্ষিতে পৌর শহরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল সাড়ে ৪ টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।
কাজল কায়েস/আরএইচ/এএসএম