দেশজুড়ে

রাজবাড়ীতে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪ শিশু

রাজবাড়ীতে হামের উপসর্গ নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮ জন শিশু। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৪ জন এবং উন্নত চিকিৎসার এক শিশুকে করা হয়েছে রেফার্ড। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে প্রতিনিয়তই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া শিশুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা এবং তাদের বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই জ্বর, সর্দি-কাশি এবং সারা শরীরে লালচে দানা ওঠার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ২৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে।

এদিকে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে ৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলেও হাম পজেটিভ এসেছে মাত্র ৩ জন শিশুর। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার বাইরে রয়েছে রাজবাড়ী জেলা।

অভিভাবকরা বলেন, দেশের বিভিন্নস্থানে হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের খবরে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের বাচ্চাদের জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও হালকা র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসায় দিন দিন তারা সুস্থ হয়ে উঠেছে।

রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এম এম মাসুদ বলেন, রাজবাড়ী জেলায় এখন পর্যন্ত হামে মৃত্যুর হার নেই এবং সংক্রমণের হারও খুব কম। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৪৮ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এই রোগীদের ৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৩ জনের হাম পজিটিভ এসেছে। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ্য হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি হলেও ২ জন সুস্থ হয়ে রিলিজ নিয়ে চলে গেছে। বাকিদের সবার অবস্থা ভালো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সংক্রমণের হার বেশি দেশের এমন ১৮টি জেলা হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে এবং দেশের অন্য জেলার মত রাজবাড়ীতে ৩ মে থেকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত বয়সী শিশুদের হামের টিকা প্রদান শুরু করা হবে। তবে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে।

রুবেলুর রহমান/এনএইচআর/এমএস