দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে এসএমই এবং কৃষিখাত অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাতে এলে এ আহ্বান জানান গভর্নর। বিষয়টি ডিসিসিআইয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা উত্তরণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে দেশের সিএসএমই খাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। যার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
দেশে দীর্ঘসময়ের বজায়ে থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য লজিস্টিক ও পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের উচ্চহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও পিছিয়ে রয়েছি। এ অবস্থা উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালার সংস্কারের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের কোনো বিকল্প নেই।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে নীতিগত সুদের হার ১০ শতাংশ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ঋণের সুদের হার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
বর্তমান অবস্থাকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকটের প্রতিফলন উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এর কারণে ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্বল্প মুনাফাভিত্তিক উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বিষয়টি মোকাবিলায় নীতিগত সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের সুদের হারের মধ্যে বড় ব্যবধানের কারণে ৫ শতাংশের বেশি স্প্রেড রেট বিদ্যমান রয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে এবং সেইসঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করেছে।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শক্তিশালী সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং কম চাহিদার মতো সমস্যায় থাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত (অনিচ্ছাকৃত) খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তাসকীন আহমেদ।
এ সময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচটি/এমএএইচ/