দেশজুড়ে

তেল নিতে আড়াই কিলোমিটার লাইন, পাম্পে হাতাহাতি

জয়পুরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। এক ফোঁটা তেলের আশায় ভোর থেকে পাম্পগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকরা। আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তেলের দাবিতে পাম্পে পাম্পে চলছে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রতিটি পাম্পে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট (ট্যাগ অফিসার) মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জয়পুরহাটের ডালিম ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায় চরম বিশৃঙ্খলা ও নজিরবিহীন ভোগান্তির চিত্র। ভোর থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। লাইন গিয়ে ঠেকেছে প্রায় আড়াই কিলোমিটারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ডালিম ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে চালকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত তেল না পাওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরো জয়পুরহাট জেলায় পেট্রোল পাম্প রয়েছে ২০টি। কিন্তু তেলের সরবরাহ তলানিতে ঠেকায় আজ মাত্র ৯টি পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে চালু থাকা ৯টি পাম্পেই পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার কড়া নজরদারি রাখছেন।

এদিকে, সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া প্রান্তিক কৃষকরা। মৌসুমি শাকসবজি রক্ষায় শ্যালো মেশিনে (ছোট ইঞ্জিন) সেচ দিতে তাদের পেট্রোল প্রয়োজন। কিন্তু পাম্প মালিকরা রেশনিং করে জনপ্রতি মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল দিচ্ছেন। এতে সেচকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবুল হোসেন নামের একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‌‘ভোর থেকে না খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি একটু তেলের জন্য। কিন্তু যেটুকু তেল দিচ্ছে, তা দিয়ে তো কিছুই হবে না। সময়মতো পানি দিতে না পারলে সবজির জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে। আমাদের একেবারে পথে বসতে হবে।’

এ বিষয়ে মেসার্স ডালিম ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই কমবেশি হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ চলছে।

মাহফুজ রহমান/এসআর/এমএস