যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদে তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শার্শা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘উপজেলাবাসী’র ব্যানারে ১১টি ইউনিয়নের ইউপি সদস্যসহ সর্বস্তরের শত শত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে ওই কর্মকর্তার অপসারণসহ তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু ও শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামান পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে টেন্ডারের আড়ালে প্রকল্পগুলো একক ব্যক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন করাচ্ছেন। টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের ভুয়া সদস্য বানিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামানের সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ডিহি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে মাটির ওপর ইট বসিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অফিসে ডেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুরিয়া ঘোপে ইমরানের দোকান থেকে মনজুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, আংশিক কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তারা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর অপসারণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত তদন্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রঞ্জুর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, শার্শা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাখায়াত হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাইমিনুল সাগর, বেনাপোল পৌর যুবদলের সভাপতি মফিজুর রহমান বাবু প্রমুখ।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, তিনি স্মারকলিপি পেয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে একাধিক বার মুঠোফোনে ও খুদে বার্তা দিয়েও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মো. জামাল হোসেন/কেএইচকে/এমএস