দেশজুড়ে

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত, ২০ দিন পর দাফন হলেন মামুন

সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার ২০ দিন পর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুনের (৩৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) আসরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। মামুন এক ছেলে সন্তানের জনক। জীবিকার সন্ধানে ৮ বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি।

এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নিহত মামুনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। মরদেহ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

পরে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। গ্রামজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নিহতের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম শারমীন বলেন, ‘সর্বশেষ ৫ বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। বিদেশ গেলেন পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।’

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুনের বাবা শহীদ সওদাগর বলেন, ‘ইদুল আযহার পর দেশে এসে নতুন বাড়ি করার কথা ছিল। কিন্তু আমার ছেলের বাড়ি করা হলো না। ছেলে ফিরলো লাশ হয়ে।’

গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মামুন গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে মামুন সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৭ মার্চ সৌদি আরব সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা মামুনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/এএসএম