ভোলায় বিবি সাওদা ইসলামকে গ্রেফতারের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তূর্যর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ এপ্রিল ভোলায় ‘বিবি সাওদা ইসলাম’ নামে এক গৃহবধূকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ফেসবুক পোস্টের অভিযোগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা বাকস্বাধীনতা হরণ ও অমানবিক হয়রানি। এ ঘটনায় সংগঠনটি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি জানায়, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। জ্বালানি সংকট বা রাষ্ট্রীয় যেকোনো অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করা নাগরিকের অধিকার এবং এটি কোনো অপরাধ হতে পারে না। নাগরিকের সমালোচনাকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা,বিশেষ করে একটি অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুকে মা-হারা করে রাখা চরম অমানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি।
অবিলম্বে বিবি সওদা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা ও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি মনে করে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের ব্যবহার এবং ভিন্নমত দমনের এই প্রক্রিয়া জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও প্রত্যাশার পরিপন্থি। সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ। ভিন্নমত দমন ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সেই জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি নাগরিকের কণ্ঠরোধ করতে আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করাসহ, ভিন্নমত পোষণ করলেই গ্রেফতারের সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/এএসএম