জাতীয়

শিরীন শারমিনকে গ্রেফতার দেখানো মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর লালবাগে গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

এর আগে আজ রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিনকে আটক করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং লালবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ডিএমপির অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

লালবাগ থানায় করা ওই মামলার বাদী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যেখানে শিরীন শারমিন তিন নম্বর আসামি।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনায় পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন, যাতে বহু মানুষ আহত ও নিহত হন।

বাদী আশরাফুল উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও ওই ঘটনায় গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। তার বাম চোখ, মাথা, মুখমণ্ডল, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে এবং তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় শিরীন শারমিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত চলমান।

এমডিএএ/একিউএফ