জাতীয়

করোনা মোকাবিলায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল

২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানি ও ক্রয়ে ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন ও সরঞ্জাম ক্রয়ে সরকারের ব্যয় ও স্বচ্ছতা নিয়ে ফেনী-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মৌখিক উত্তরদানের জন্য প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন প্রশ্ন করেন, বিগত করোনা ভাইরাস মৌসুমে মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব কী, ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কি না, হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানি ও ক্রয়ের জন্য মোট ৪ হাজার ৬২৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২ হাজার ২ লাখ ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই বরাদ্দ থেকে ভ্যকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে চার হাজার ৩৯৪ কোটি আট লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া সিরিঞ্জ কেনায় ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পরিবহন খাতে ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং সিরিঞ্জ শিপিং খাতে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

মন্ত্রী আরও জানান, ভ্যাকসিন ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।

 এদিকে, মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানিয়েছেন, হজ ২০২৭-এর প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীর সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৬ সনের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ এরইমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি টাইম লাইন অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

এমওএস/এসএনআর