বাংলাদেশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্তানকে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যাওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এক মার্কিন নাগরিক। হাইকোর্টের আদেশ হাতে নিয়ে ঢাকার আদালত চত্বরে এসে সন্তানের জিম্মা ফিরে পেতে বিচার চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে উপস্থিত হন মার্কিন নাগরিক গ্যারিসন রবার্ট লুট্রেল। নিজের শিশু সন্তানের জিম্মা ফিরে পেতে এবং আইনি সহায়তা চাইতেই তিনি আদালতে আসেন বলে জাগো নিউজকে জানান।
গ্যারিসন রবার্ট লুট্রেলের অভিযোগ, তার বাংলাদেশি স্ত্রী ফারহানা করিম অন্য এক বিদেশি ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। শুধু তাই নয়, তাদের শিশু সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সন্তানের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় তার কাছে অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
এ সময় রবার্ট লুট্রেল আদালতের একটি আদেশনামা প্রদর্শন করেন। যেখানে দেখা যায়, ভিকটিম শিশু ফাতমির ওয়াল ইকরাম লুট্রেলকে জিম্মায় নেওয়ার পর সেই শর্ত ভঙ্গ করে তার মা ফারহানা করিম অজ্ঞাতস্থানে চলে গেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, জিম্মা গ্রহণকারী ফারহানা করিম জিম্মার শর্ত লঙ্ঘন করায় তার জিম্মা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গ্যারিসন রবার্ট লুট্রেল জাগো নিউজক বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি চাই বাংলাদেশে আইন অনুযায়ী আমার সন্তানের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক এবং তাকে দ্রুত আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা চান এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এমডিএএ/এমএমএআর