অর্থনীতি

আমানত ফেরতে বিশেষ ব্যবস্থা, অসুস্থদের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত নিয়মে ধাপে ধাপে ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ আমানতকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন। এ ছাড়া উত্তোলনে বাধা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগও থাকছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসব কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আন্দোলন করেন প্রায় অর্ধশত মানুষ। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এ স্কিমে প্রথম দিন থেকেই সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর তিন মাস পর ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি তিন মাস পর আরও ১ লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে প্রায় ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলন করা যাবে।

শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আমানত হিসাবের পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আমানত মেয়াদপূর্তির পর প্রথমে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নের মাধ্যমে তোলা যাবে। প্রতিবার নবায়নের সময় মুনাফা উত্তোলনের সুযোগও থাকবে।

বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিডনি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সীমাহীন অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হবে। অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়মে টাকা উত্তোলনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানানো যাবে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক শাখা একীভূত করে একটি শাখায় রূপান্তর করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভাড়া করা প্রধান কার্যালয় ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সমন্বয়ের কাজ চলছে এবং ভিন্ন ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

ইএআর/এসএইচএস