খেলাধুলা

যেসব অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের কমিটি

২০২৫ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং প্রক্রিয়াগত দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কাউন্সিলর তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো, ভোটার তালিকা প্রকাশে অসঙ্গতি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পড়ে শোনান। সেখানেই তিনি জানান, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এখানে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো-

সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগতদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠে এসেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ই-ভোটিং নিয়ে কারচুপির অভিযোগতদন্ত কমিটি আরও জানিয়েছে, নির্বাচনে ব্যবহৃত ই-ভোটিং পদ্ধতিতে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়নি এবং তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক কাউন্সিলরকে রাজধানীর একটি হোটেলে একত্রিত হয়ে ই-ভোট দিতে উৎসাহিত বা প্রভাবিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটির মতে, এতে ভোটের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হয়েছে।

বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগপ্রতিবেদনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না বলে কমিটির পর্যবেক্ষণ। এতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বর্তমান বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী এনএসসি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, বর্তমান কমিটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসি পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান। তাদের আশা, বিষয়টি আইসিসি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করবে।

অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। কমিটিতে আরও আছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ও রুশনা ইমাম।

নতুন এই অ্যাডহক কমিটি আগামী তিন মাসের জন্য বিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যেই একটি নতুন নির্বাচিত কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে বলে জানিয়েছে এনএসসি।

এসকেডি/এমএমআর