আইন-আদালত

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

বিএনপির এক কর্মীকে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরের (৬১) আবারও ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এতে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা ছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারা যুক্ত রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় সহিংসতা সংঘটিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় লাঠিচার্জ, ককটেল বিস্ফোরণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণে বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল নামের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এজাহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৫০০-৬০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে সমাবেশ বানচাল এবং বিরোধী পক্ষকে দমনে এই হামলা চালানো হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার ১৪৭ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আফজাল নাছের বর্তমানে ইউনাইটেড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (এডমিন) হিসেবে কর্মরত। তিনি তার পূর্ববর্তী দায়িত্ব ও প্রভাব ব্যবহার করে ঘটনার নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফারুক বলেন, আসামি ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সরকারকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরও রিমান্ডে নিলে অধিক তথ্য পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন আদালতে বলেন, পুরো মামলায় নাম ছাড়া তার (আফজাল নাছের) বিরুদ্ধে আর কিছু নেই। এর আগে তিনি তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেল গেটেই করা যেতে পারে। এতে আমাদের আপত্তি নেই।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমডিএএ/এমএমকে