অর্থনীতি

অভিযানে জ্বালানি উদ্ধার হলো কী পরিমাণ, সর্বশেষ মজুতইবা কত?

এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি তেলের মজুতের পরিমাণও জানান।

যুগ্ম সচিব বলেন, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুত করা মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার এবং পেট্রোল ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার।

তিনি বলেন, এপর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মামলার সংখ্যা ৩ হাজার ১১টি। মোট জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা। মোট ৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ- ডিজেল এক লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন, অকটেন ৪ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ টন বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী।

‌‘নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।’

অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলার মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। অযথা মজুত বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলেই নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমে আসবে।’

আরএমএম/এমএএইচ