ক্যাম্পাস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি বাম সংগঠনগুলোর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম ও দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলো।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যৌথভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যখন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয়, তখন সেই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নীতি নির্ধারণে অন্য কোনো দেশের এমন নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়।

বাহাউদ্দিন শুভ আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি সমতার ভিত্তিতে নয়; বরং তা দেশের স্বার্থবিরোধী। অথচ ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল উভয়ই এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই।

তিনি বলেন, এই ‘অন্যায্য ও অসম’ চুক্তির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় দেশ আরও গভীর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংকটে পড়বে।

যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূস ‘তথাকথিত আশীর্বাদ’ হিসেবে দেশে আসেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আসাদুজ্জামান দাবি করেন, প্রায় ১৮ মাস সময় নিয়ে তিনি (ড. ইউনূস) সেই স্বার্থই নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ড. ইউনূস তার প্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের কর মওকুফ করিয়ে নেন এবং বিদায়ের আগে দেশকে সাম্রাজ্যবাদের অধীন করে দেওয়ার মতো চুক্তি সম্পাদন করে যান। তিনি বলেন, এই গোলামির চুক্তি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

সভাপতির বক্তব্যে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৪টি চুক্তি করেছে, যা দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির ভেতর দিয়ে ড. ইউনূস দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছেন। তিনি মূলত বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ক্ষমতায় বসেছিলেন।

অমিত রঞ্জন দে আরও বলেন, আমাদের বেশি দামে নিম্নমানের গম কিনতে হচ্ছে এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির বিষয় সামনে আসছে। এটি দাসত্ব ছাড়া আর কী হতে পারে? তিনি বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এফএআর/এমএমকে