সরকারি কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও সেখানে না থেকে নিয়মিত টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এই চিকিৎসকের নাম ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক। মাসে ২৫ দিনই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান করা) বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. মো. ২০২৫ সালে তারিকুল ইসলাম তারেক খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) হিসেবে যোগদান করেন। তারপর থেকেই তিনি নানা অজুহাতে অনুপস্থিত রয়েছেন। পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে যোগদান করায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের চাহিদা দেন। পরবর্তীতে পানছড়িতে গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা হয়। তবে ডা. তারিকুল ইসলাম তারেকের অনুপস্থিতির কারণে এখনো সিজারিয়ান অপারেশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা নিয়মিত চালু করা সম্ভব হয়নি পানছড়িতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. তারিকুল ইসলাম তারেকের পূর্বের কর্মস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে তিনি কাজ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে অ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বিষয়টি চরম পর্যায়ে পৌঁছলে কর্তৃপক্ষ তাকে মধুপুর থেকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে বদলি করেন।
তবে সেখানে যোগদান করেই তিনি প্রথমে বদলি জনিত ছুটির অজুহাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি পানছড়ি থেকে মধুপুর এসে নিয়মিত বিভিন্ন ক্লিনিকের সিজারিয়ান অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি অ্যানেস্থেশিয়ার ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ক্লিনিকেই তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন অপারেশন চলাকালে অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার দম ফেলার সময় থাকে না তার। অনেক সময়ই অপারেশন শেষ হওয়ার আগেই অপারেশনরত চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিককে বলে ছুটে যান আরেক ক্লিনিকে। ওটি রুম থেকে বের হয়েই এক হাজার পাঁচশ টাকা ক্লিনিকের ম্যানেজারের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ছুটে চলেন আরেক ওটির দিকে। এভাবেই সকাল ১০টা থেকে রাত ১২-১টা পর্যন্ত চলে তার ব্যস্ততা। সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতেও তার ব্যস্ততার শেষ নেই।
এমনকি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ থাকলে সেখানেও অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্ব পালনের তথ্য পাওয়া গেছে।
মধুপুরের জামালপুর রোডের ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের হাসপাতালে বিভিন্ন অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে ডা. তারেকুল ইসলাম তারেক অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
চৌধুরী আউটডোর ক্লিনিকের মালিক ডা. জহরলাল চৌধুরী বলেন, ডা. তারেকুল ইসলাম তারেক আমাদের ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিয়ার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রোগীর চাপ বেশি থাকলে অন্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরাও দায়িত্ব পালন করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, আমি পানছড়িতে অফিস করি। তবে অনেক দূরের পথ হাওয়ার কারণে মাঝে মধ্যে অনুপস্থিত থাকি। আর মধুপুরে আমার সামাজিকতাও রক্ষা করতে হয়।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ডা. তরিকুল ইসলামের দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতের কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুপস্থিত থাকেন। আমি বিষয়টি জানার পর গত মাসে তাকে শোকজ করতে বলেছি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/কেএইচকে/এএসএম