লিপস্টিক ছাড়া অনেকেরই মেকআপ অসম্পূর্ণ মনে হয়। একটি সুন্দর শেডের লিপস্টিক মুহূর্তেই মুখের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিদিনের সাজ হোক বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে লিপস্টিক অনেকের কাছেই আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি সহজ উপায়। ঠোঁটে হালকা রঙের ছোঁয়া পুরো লুককে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং মুখে এনে দেয় উজ্জ্বলতা।
বর্তমানে বাজারে অসংখ্য রং ও টেক্সচারের লিপস্টিক পাওয়া যায়। তবে এর বেশিরভাগেই বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থাকে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহারে ঠোঁটের স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে যেতে পারে। তাই অনেকেই এখন নিরাপদ ও ঘরোয়া উপায় লিপিস্টিক তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আপনিও ঘরে বসে লিপস্টিক বানাতে পারবেন।
কেন বেছে নেবেন ঘরে তৈরি লিপস্টিক?ঘরে তৈরি লিপস্টিক শুধু সাশ্রয়ী নয়, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ। এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে না, ফলে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। এই লিপস্টিক ঠোঁটকে শুধু রঙিন করে না, বরং ভেতর থেকে পুষ্টিও জোগায়। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট ধীরে ধীরে নরম, মসৃণ এবং স্বাভাবিক গোলাপি হয়ে ওঠে। এটি তাদের জন্য আদর্শ, যারা কেমিক্যাল এড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে চান।
যেভাবে তৈরি করবেনঘরে বসেই খুব সহজ উপকরণ দিয়ে এই লিপস্টিক তৈরি করা যায়। এই প্রাকৃতিক লিপস্টিক তৈরির জন্য প্রথমে ২-৩ টেবিল চামচ বিটরুটের রস একটি প্যানে নিয়ে মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এতে রস কিছুটা ঘন হয়ে আসবে এবং হালকা ফেনা তৈরি হবে। এরপর গ্যাস বন্ধ করে রসটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে একটি পরিষ্কার কাচের পাত্রে রসটি ছেঁকে নিন, যাতে কোনো অমিশ্রণ না থাকে।
এরপর এতে ১ টেবিল চামচ মোম বা ভ্যাসলিন এবং ১ চামচ গ্লিসারিন যোগ করুন। মিশ্রণটি ভালোভাবে একসঙ্গে মেশানোর জন্য বাটিটি মোমের কাগজ দিয়ে রাখুন। একটি বড় সসপ্যানে পানি ফুটিয়ে তার ওপর বাটিটি রেখে আঁচ মাঝারি রাখুন। সব উপাদান পুরোপুরি গলে না যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। মোম গলে গেলে গরম মিশ্রণে ১-২ ফোঁটা ভিটামিন ই তেল যোগ করুন এবং ভালোভাবে নাড়ুন। এরপর মিশ্রণটি একটি ছোট পরিষ্কার লিপস্টিক কেস বা কন্টেইনারে ঢেলে দিন। সেট হতে দেওয়ার জন্য এটিকে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন।
ফ্রিজ থেকে বের করার পর দেখবেন তৈরি প্রাকৃতিক লিপস্টিক ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই।
ব্যবহারের উপকারিতাএই প্রাকৃতিক লিপস্টিক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি ঠোঁটকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। বিটরুটের প্রাকৃতিক রং ঠোঁটে হালকা গোলাপি আভা এনে দেয়, যা দেখতে খুবই স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় লাগে। গ্লিসারিন ও ভ্যাসলিন ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ করে নরম রাখে, আর ভিটামিন ই তেল ঠোঁটের ক্ষত সারাতে ও শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট হয়ে ওঠে আরও মসৃণ, স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল।
ঘরে তৈরি এই লিপস্টিক শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার একটি নিরাপদ উপায়। বাজারের কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে, নিজেই বানিয়ে নিন এই সহজ প্রাকৃতিক লিপস্টিক।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:ঘাড় কপালের কালো দাগ তুলতে ভরসা রাখুন ঘরোয়া প্যাকে গরমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে ভিটামিন সি-এর ফেসপ্যাকএসএকেওয়াই