আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় কার শর্ত কী, কীসে রাজি?

মধ্যপ্রাচ্যে টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা আপাতত সংঘাত থামালেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।

যুদ্ধবিরতির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা সাময়িকভাবে কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ফের চালুর ঘোষণা এসেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে চুক্তির শর্ত, বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কীসে রাজি হয়েছে?

যুদ্ধবিরতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে’ খুলতে রাজি হয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো হলো:

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আংশিকভাবে মেনে নেওয়া হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রিত জাহাজ চলাচল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতিবাচক প্রস্তাব বাতিল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ক্ষতিপূরণ

তবে ওয়াশিংটন এখনো এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেনি। বরং ট্রাম্প পরে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে না।’

ইরান কীসে রাজি হয়েছে?

ইরান শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে।

ইরানের মূল সম্মতিগুলো হলো:

দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ফের চালু জাহাজ চলাচল ইরানি বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরান আগের চেয়ে শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে রয়েছে।

ইসরায়েলের অবস্থান কী?

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান থামাতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

তবে এটি পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ ইসলামাবাদ বলছে যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলে প্রযোজ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত অবস্থানই যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

বড় অনিশ্চয়তাগুলো কোথায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি অনেকটাই ‘অস্পষ্ট’। কারণ-

কে কীসে সম্মত হয়েছে, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় আছে কি না—এ নিয়ে বিভ্রান্তি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এরই মধ্যে উঠেছে আস্থা সংকট এখনো গভীর সামনে কী?

পরবর্তী ধাপ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হচ্ছে। সেখানেই নির্ধারণ হবে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারবে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আর একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই। অন্যদিকে ইরানও সহজে ছাড় দেবে না। ফলে যে কোনো চুক্তির জন্য উভয় পক্ষকেই বাস্তবসম্মত সমঝোতায় যেতে হবে। সেক্ষেত্রে লেবানন ইস্যু, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিনটি বিষয়ই ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল নির্ধারক হয়ে উঠবে।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/