পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই জীবিকা নির্বাহে অন্যতম সমস্যা সুপেয় পানি সংকট। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যুতের অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হতে পারে র্যাম পাম্প প্রযুক্তি।
স্থানীয়রা জানায়, বিভিন্ন কারনে পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে বান্দরবানে প্রতিনিয়ত কমছে প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো। এতে জেলার দূর্গম অঞ্চলগুলোতে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে সুপেয় পানি সংকট। জেলার চিম্বুক, থানচির হুকু খুমী পাড়া, সাখয়উ পাড়া, খেসাপ্রু পাড়া, ক্যমং হেডম্যান পাড়া, রুংসোলা পাড়া, মতি ত্রিপুরা পাড়া, চাইশৈউ পাড়া, ঙাসালাং পাড়া, উষাথোয়াই পাড়া, বাসিংঅং পাড়া, য়ংনং পাড়া, ক্রাহ্লাঅং পাড়া, অতিরাং পাড়া, অংহ্লা খুমী পাড়া ও জগৎচন্দ্র পাড়া, আলীকদমের কুরুকপাতা, লামার গজালিয়া,রোয়াংছড়ির শুকনা ঝিরি এলাকাসহ অন্তত কয়েকশত পাড়ার বাসিন্দাদের এক কলসি পানির জন্য পাড়ি দিতে হয় কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। এ অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে র্যাম পাম্প স্থাপন করা হলে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। বিশেষ করে নারীদের পানি সংগ্রহের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
তবে এ প্রযুক্তি কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন সঠিক স্থানে স্থাপন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। ফলে সমন্বিত উদ্যোগে র্যাম পাম্প হতে পারে বান্দরবানের পানি সংকট নিরসনের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান।
স্থানীয়রা আরও জানান, বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় যেখানে প্রাকৃতিক পানির উৎস রয়েছে, সেখানে র্যাম পাম্প স্থাপন করলে স্বল্প খরচে দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন পানি সংকট কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যা। বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে হেম পাম্পগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এই বাস্তবতায় র্যাম পাম্প প্রযুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নির্ভরতা ছাড়াই পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
নয়ন চক্রবর্তী/এনএইচআর/এমএস