পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ বৈঠক শেষে রোববার (১২ প্রিল) সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের পরবর্তী ভূমিকা কী হবে?
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এক টেবিলে বসানোই ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি বড় জয়। অনেক প্রচেষ্টা, অনুনয় এবং নিপুণ কূটনীতির মাধ্যমেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল ইসলামাবাদ। তবে আলোচনার সমাপ্তি হয়েছে তিক্ততায়। জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের শর্ত মানেনি। অন্যদিকে, ইরান বলছে, ‘বল এখন আমেরিকার কোর্টে’ এবং তারা কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়।
পাকিস্তানের নতুন চ্যালেঞ্জআলোচনা ভেস্তে গেলেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহলে এখনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে। একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মতে, এই ব্যর্থতার মানে এই নয় যে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন>>দুঃসংবাদ! ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্সযেসব শর্তে জটিল হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাট্রাম্পের ‘বলির পাঁঠা’ হচ্ছেন জেডি ভ্যান্স?
পাকিস্তানের সামনে এখনো দুটি পথ খোলা আছে-
১. আঞ্চলিক সংযোগ বজায় রাখা: পাকিস্তান চাইছে এই আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া যোগাযোগের পথটি ব্যবহার করে এই যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে এক টেবিলে বসাতে, যাতে তারা নিজেদের মধ্যকার বিভেদ মিটিয়ে নিতে পারে।
২. যুদ্ধবিরতি রক্ষা করা: আলোচনার শুরুতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, লেবানন, হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলা উচিত। কিন্তু বর্তমানে এই স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে।
ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ ও আলোচনার ভবিষ্যৎপাকিস্তানি কূটনীতিকদের মতে, আলোচনার এই ব্যর্থতার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে বৈরুতে নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়ে নেতানিয়াহু এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দার মুখে পছে এবং এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আস্থায় বড় ফাটল ধরিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বর্তমানে ওয়াশিংটনের পথে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/