খেলাধুলা

গোল, আবেগ আর উচ্ছ্বাস- তারদেল্লির সেই অবিস্মরণীয় উদযাপন

১৯৮২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির জয়ের গল্পের সঙ্গে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এক গোল এবং তার পরের উদযাপন। মার্কো তারদেল্লির সেই গোল এবং বিখ্যাত ‘তারদেল্লি স্ক্রিম’ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইতালি মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানির। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর আগে ইতালির হয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন পাওলো রসি, যিনি পুরো টুর্নামেন্টেই ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে।

গোলের সূচনা হয়েছিল রসিরই প্রচেষ্টায়। তিনি পেছনে ফিরে এসে জার্মানির মিডফিল্ডার পল ব্রেইটনারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। এরপর দ্রুত পাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে আক্রমণ গায়েতানো শিরেয়া, ব্রুনো কন্তি এবং পাওলো রসি এবং গুইসেপ বেরগোমি- এ চারজনের অংশগ্রহণে তৈরি হয় নিখুঁত মুভ।

শেষে বল পৌঁছে যায় তারদেল্লির কাছে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে সামান্য ভারসাম্যহীন অবস্থায় থাকার পরও তিনি এক টাচ নিয়ে ডি-বক্সের একদম প্রান্ত থেকে অসাধারণ হাফ-ভলি শটে বলটি জালের নিচের কোণে পাঠিয়ে দেন। জার্মান গোলরক্ষক টনি শুমাখারের কোনোভাবেই সেই শট ঠেকাতে পারেননি।

গোল করার পরই শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় উদযাপন। তারদেল্লি দৌড়াতে দৌড়াতে চিৎকার করতে থাকেন- যা পরে ‘তারদেল্লি স্ক্রিম’ নামে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তারদেল্লি বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ছিল চরম উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। এটা ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল। যখন সেটা বাস্তবে ঘটল, তখন সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানরা আমাকে জীবনে অনেক আনন্দ দিয়েছে, কিন্তু ওই মুহূর্তের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। খেলাধুলা বা জীবনে- এটাই সর্বোচ্চ আনন্দ।’

নিজের বিখ্যাত উদযাপন প্রসঙ্গে তারদেল্লি বলেন, ‘ওটা ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। আমি যেন পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। ওই চিৎকারটা আমার ভেতরেই ছিল জন্ম থেকেই।’

সেই ম্যাচে ইতালি শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জয় পায় এবং তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। তবে স্কোরলাইন যতটা না মনে রাখা হয়, তার চেয়েও বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে তারদেল্লির সেই গোল এবং তার আবেগঘন উদযাপন- যা আজও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

আইএইচএস/