রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে মংক্যচিং মারমা (৪৫), স্থানীয়ভাবে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মংক্যচিং মারমা চিৎমরম বড় পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত চাথোয়াই মারমার ছেলে। তিনি পেশায় শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে পাহাড় থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ পাহাড়ি রাস্তায় বন্য হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মংক্যচিং। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনবিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, বন্য হাতির আক্রমণে একজনের মৃত্যুর ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে বনাঞ্চলের প্রাণী, বিশেষ করে হাতির ওপর কেউ যেন কোনো ধরনের আক্রমণ না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্য হাতি দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানাতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
এদিকে, চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকের জানান, ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি জনপদের লোকালয়ে বন্য হাতির বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে খাবার ও পানির সন্ধানে বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে নেমে আসে হাতির দল। এতে প্রায়ই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি সংকুচিত হওয়া ও মানববসতির সম্প্রসারণই মানুষ-হাতি সংঘাতের প্রধান কারণ। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও বন বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ। অন্যথায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে।
আরমান খান/এসএএইচ
রাঙ্গামাটি০১৫৫২৪৩৫১১৮