আন্তর্জাতিক

বিজেপি নেতা শুভেন্দুর আসনে বাদ পড়া ভোটারদের ৯৫ শতাংশই মুসলিম

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আলোচিত আসনগুলোর একটি হলো নন্দীগ্রাম। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। এবারের নির্বাচনে আসনটিতে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী অপরিবর্তিত থাকলেও তৃণমূল থেকে মমতার বদলে প্রার্থী করা হয়েছে পবিত্র করকে।

নির্বাচনের আগে এই আসনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যান ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর ‘সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়’ সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম।

আরও পড়ুন>>পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবারও তারকা প্রার্থীর ছড়াছড়িদুই আসনে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী, প্রতিপক্ষ মমতা ব্যানার্জীনির্বাচনের আগে আরেকটি ‘পাহেলগাম’ কাণ্ডের শঙ্কা মমতারপশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৯১ লাখ নাম

নন্দীগ্রামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ মুসলিম হলেও এসআইআরের ‘সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়’ বাদ পড়াদের ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটার।

তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তালিকায় মোট ১০ হাজার ৬০৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ ছিলেন অমুসলিম এবং ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ মুসলিম।

কিন্তু এসআইআরের ‘সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়’ দেখা যাচ্ছে, মোট ২ হাজার ৮২৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জন। শতাংশের হিসাবে তা প্রায় ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ এই তালিকায় অমুসলিমদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা মাত্র ১২৬ জন বা প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। নাম বাদ পড়াদের মধ্যে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নাম বাদ পড়ার এই তালিকায় এত বড় পরিবর্তন কীভাবে এলো এবং কেন নির্দিষ্টভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়ার কবলে পড়েছে—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ডিডি/কেএএ/