অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)।
গত রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এতে করে দেশের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)।
জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে ইআরএলের সহকারী ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. মনজেদ আলী শান্ত জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের মূল প্ল্যান্ট বন্ধ করা হয়েছে। তবে কখন থেকে বন্ধ সেটি নিশ্চিত করতে পারবো না। অন্য ইউনিটগুলো চালু রয়েছে।’
পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরএলের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত পরশু (রোববার) থেকে আমাদের প্ল্যান্টটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্রুড এলে পুনরায় প্ল্যান্ট চালু করা হবে।’
তবে বিষয়টি জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাতের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরও পড়ুনদেশি পেট্রোল উৎপাদনেও লাগে বিদেশি অকটেনউৎপাদন বন্ধ থাকলেও চালু ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট!চট্টগ্রাম বন্দরে বিকল স্ক্যানার, আটকা শত শত কনটেইনার
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ টন ক্রুড পরিশোধন করা হয়। ইআরএলে দুই ধরনের ক্রুড পরিশোধন করার সুযোগ রয়েছে। এরমধ্যে সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আনা হয়।
সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক লাখ টন মারবান ক্রুড আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলে বাংলাদেশে ক্রুড আমদানি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশে ক্রুড আসা।
মার্চ মাসে দুই লাখ টন ক্রুড আসার কথা ছিল। এরমধ্যে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড নিয়ে ৫ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।
অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবলদানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ তারিখে এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার ভ্যাসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকট তৈরি হয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
আরও পড়ুনজ্বালানি মজুত সক্ষমতা না বাড়ালে ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ৮ এপ্রিল শেষ হতে পারে ক্রুডের মজুত, বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারিদ্বিতীয় রিফাইনারি হলে আমাদের জ্বালানি সংকট আরও ৩-৪ মাস পরে আসতো
পরে বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড আনার পদক্ষেপ নেয় বিপিসি। রাসতানুরা থেকে পাইপলাইন দিয়ে আসা ক্রুড অয়েল লোড নিতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের পথে রয়েছে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ।
বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য বলছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশাল বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।
এমডিআইএইচ/বিএ