লাইফস্টাইল

আপনি বললে সন্তান কথা শুনছে না, অন্য কেউ বললেই মানছে? কিন্তু কেন

টিনএজার সন্তানের অনেক বাবা-মায়েরই অভিযোগ - একই কথা বারবার বললেও সন্তান শুনছে না, কিন্তু সেই একই কথা যদি কোনো শিক্ষক, আত্মীয় বা পরিবারের বাইরে অন্য কেউ বলেন, তখন সন্তান সহজেই সেটি মেনে নেয়।

এতে অনেক অভিভাবকই হতাশ হন, এমনকি মনে করেন সন্তান তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। আসলে বিষয়টি অবাধ্যতা নয়, বরং বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক মানসিক পরিবর্তনের অংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, কৈশোরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মস্তিষ্কে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই সময় তারা নিজের স্বাধীনতা, পরিচয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বেশি সচেতন হয়ে ওঠে। ফলে বাবা-মায়ের পরামর্শ অনেক সময় তাদের কাছে নিয়ন্ত্রণ বা চাপ মনে হয়।

১. স্বাধীনতার চাহিদা বাড়েটিন এজ বা বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চায়। তাই সরাসরি নির্দেশনা বা উপদেশ অনেক সময় তাদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

২. আবেগগত সংযোগ প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করেবাবা-মায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে থাকে আবেগ, প্রত্যাশা ও শাসনের অভিজ্ঞতা। ফলে তাদের বলা কথা অনেক সময় নিরপেক্ষভাবে নয়, আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে গ্রহণ করা হয়। এতে প্রতিরোধ তৈরি হতে পারে।

৩. বাইরের মানুষের কথা ‘কম চাপযুক্ত’ মনে হয়একই কথা যখন শিক্ষক বা অন্য কোনো বড় ব্যক্তি বলেন, তখন সেটি তুলনামূলক নিরপেক্ষ শোনায়। সেখানে আবেগের চাপ কম থাকে, ফলে টিনএজাররা বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে।

৪. সামাজিক স্বীকৃতির প্রভাবএই বয়সে বন্ধু, শিক্ষক বা সমাজের অন্য মানুষের মতামত অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা নিজের সিদ্ধান্তকে বাইরের জগতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চায়।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের তথ্য অনুযায়ী, কৈশোরে মস্তিষ্কের যে অংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, তা পুরোপুরি পরিণত হতে সময় নেয়। ফলে তারা অনেক সময় আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখায়, বিশেষ করে পরিচিত সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড জানায়, এই বয়সে সামাজিক পরিবেশ ও সম্পর্ক কিশোরদের সিদ্ধান্ত ও আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কে বলছে - তা অনেক সময় কী বলা হচ্ছে তার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে।

তাহলে অভিভাবক কী করবেন?

প্রথমত, সরাসরি নির্দেশনা না দিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করুন। প্রশ্ন করুন, তার মতামত জানতে চান।

দ্বিতীয়ত, মাঝে মাঝে অন্য বিশ্বস্ত বড়দের (যেমন শিক্ষক, আত্মীয়) মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোও কার্যকর হতে পারে।

তৃতীয়ত, সম্পর্ককে এমন জায়গায় নিয়ে যান যেখানে সন্তান আপনার কথা ‘শাসন’ নয়, ‘সহযোগিতা’ হিসেবে দেখতে শেখে।

মনে রাখতে হবে, সন্তান আপনার কথা এড়িয়ে যাচ্ছে মানেই সে আপনাকে অগ্রাহ্য করছে না। বরং এটি তার বেড়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক ধাপ। সঠিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই দূরত্বই আবার সম্পর্ককে আরও পরিণত করে তুলতে পারে।

সূত্র: আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, সাইকোলজি টুডে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ

এএমপি/এএসএম