গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপই নতুন অভিজ্ঞতায় ভরা। বিশেষ করে যখন চার মাস পার হয়ে যায়, তখন শরীরের ভেতরে পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় তীব্র গরম, তাহলে অস্বস্তি যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই সময় অনেক গর্ভবতী নারীই ঠান্ডা পানির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন।
প্রশ্নটা তখন স্বাভাবিকভাবেই আসে, এই ঠান্ডা পানি কি গর্ভের সন্তানের জন্য নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তর যেমন সহজ, তেমনি কিছু সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।
ঠান্ডা পানি পানে ভয়ের কিছু আছে কি?ঠান্ডা পানি খাওয়ার সঙ্গে গর্ভের শিশুর কোনো সরাসরি ক্ষতির সম্পর্ক নেই। আপনি যে পানি পান করেন, তা আপনার শরীরে প্রবেশ করে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সঙ্গে দ্রুতই মানিয়ে নেয়। ফলে পানির ঠান্ডাভাব শিশুর কাছে পৌঁছায় না। তাই শুধু ‘ঠান্ডা’ বলেই পানি এড়িয়ে চলার কোনো প্রয়োজন নেই।
কেন গরমে ঠান্ডা পানি এত ভালো লাগে?গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে। তার ওপর গরম আবহাওয়া থাকলে অস্বস্তি, ঘাম, ক্লান্তি সবই বাড়ে। এই সময় ঠান্ডা পানি শরীরে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়, ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি কমাতে সহায়ক হয়। তাই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ঠান্ডা পানি খেতে ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক।
অতিরিক্ত বরফ দেওয়া পানি এড়িয়ে চলুন। খুব বেশি ঠান্ডা বা বরফ মেশানো পানি হঠাৎ গলা ব্যথা, সর্দি বা ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় ইমিউন সিস্টেম কিছুটা সংবেদনশীল থাকে, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।
হজমের সমস্যা থাকলে সাবধান। অনেকের ক্ষেত্রে খুব ঠান্ডা পানি গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। যদি এমন সমস্যা আগে থেকেই থাকে, তাহলে ফ্রিজের একেবারে ঠান্ডা পানি না খেয়ে স্বাভাবিক বা হালকা ঠান্ডা পানি বেছে নিন।
আরও পড়ুন: সুস্থ থাকতে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন কোল্ড ড্রিংকস গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের সতর্কতানিরাপদ পানি পান করুন। গরমে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো দূষিত পানি। তাই পানি যেন সবসময় ফুটানো, ফিল্টার করা বা নিরাপদ উৎসের হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
কতটা পানি পান করবেন? দিনে ৮–১০ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হতে পারে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করুন প্রস্রাবের রঙ যদি গাঢ় হয়, বুঝবেন শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে গরমে সুস্থ থাকার বাড়তি কিছু টিপস বিকল্প পানীয় বেছে নিন, যেমন- ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তাজা ফলের রস (কম চিনি)। এসব পানীয় শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতি কাপড় পরলে শরীর ঠান্ডা থাকে। দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে না যাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে ছাতা বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।গর্ভাবস্থায় নিজের শরীরের কথা শোনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি ঠান্ডা পানি খেতে ভালো লাগে, তাহলে সেটা খেতে পারেন। তবে সচেতনভাবে, পরিমিত পরিমাণে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি যেন সুস্থ, হাইড্রেটেড এবং স্বস্তিতে থাকেন। কারণ আপনার সুস্থতাই গর্ভের শিশুর সুস্থতার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।
তথ্যসূত্র: গাইনি স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন
জেএস/